বিজ্ঞাপন প্রচারের আড়ালে ১৫ কোটি ১৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে প্রিমিয়ার ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান এইচবিএম ইকবাল, তার দুই ছেলে, সাবেক এমপি সালাম মুর্শেদী ও বিএইচ হারুণসহ ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ১১টি মামলা রুজু করার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের মহাপরিচালক আক্তার হোসেন জানান, ২০২১–২০২২ সালের মধ্যে বিজ্ঞাপন কার্যাদেশের বিপরীতে এসব অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। মামলাগুলো বুধবার প্রধান কার্যালয় থেকে অনুমোদিত হয়েছে।

আসামিদের মধ্যে রয়েছেন প্রিমিয়ার ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান এইচবিএম ইকবাল, তার ছেলে পরিচালক মোহাম্মদ ইমরান ইকবাল ও মঈন ইকবাল, সাবেক এমপি আবদুস সালাম মুর্শেদী, সাবেক এমপি বজলুল হক হারুন, পরিচালক শফিকুর রহমান, জামাল গুপ্ত আহমেদ, শায়লা শেলী খান, এএইচএম ফেরদৌস, নব গোপাল বণিক, শাহ মোহাম্মদ নাহিয়ান হারুন, স্বতন্ত্র পরিচালক কাইজার আহমেদ চৌধুরী, ইভিপি মোহাম্মদ তারেক উদ্দিন, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ আবুল হাশেম, এমডি এম রিয়াজুল করিম, ডিএমডি ও ক্রয় কমিটির প্রধান সৈয়দ নওশের আলী এবং মাইন্ডট্রি লিমিটেডের এমডি ইকবাল আল মাহমুদ।

দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, মাইন্ডট্রি লিমিটেড নামে একটি বিজ্ঞাপনী প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকের অর্থ আত্মসাতের একটি কৌশল অবলম্বন করেছিল। ২০১১ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত ইকবালের নির্দেশে মোট ৪৩৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা বিজ্ঞাপনের অগ্রিম হিসেবে জমা দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৩৪২ কোটি ২৯ লাখ টাকা সমন্বয় দেখানো হলেও ৯৬ কোটি ৪১ লাখ টাকা এখনও অসমন্বিত রয়েছে।

২০২১–২০২২ সালে প্রিমিয়ার ব্যাংক ১১টি কার্যাদেশ মাইন্ডট্রিকে দিয়েছে ১৯ কোটি ৮০ লাখ টাকার জন্য। চুক্তি অনুযায়ী ১০০ মিনিট করে বিজ্ঞাপন প্রচার হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে মাত্র ৫০ মিনিট সম্প্রচার হয়েছে। ভেন্ডরের বিল ও ভাউচার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১১টি কার্যাদেশের বিপরীতে প্রকৃতপক্ষে ৪ কোটি ৬৭ লাখ টাকা ছাড়া বাকি ১৫ কোটি ১৩ লাখ টাকা কোনো বৈধ খাতে ব্যয় না করে আত্মসাৎ করা হয়।

আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে ৯ জানুয়ারি একই ঘটনায় ৮ কোটি ১৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ইকবাল, তার দুই ছেলে, সালাম মুর্শেদী ও ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ৫টি মামলা করা হয়েছিল।