বাংলাদেশ যে কোনো মুহূর্তে ৯ মাত্রার একটি প্রলয়ংকরী ভূমিকম্পের শিকার হতে পারে বলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা। গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় অবস্থিত ‘মেগাথার্স্ট’ ফল্ট থেকে এই মাত্রার ভূমিকম্প সৃষ্টি হওয়ার চরম আশঙ্কা রয়েছে। শনিবার জেসিএক্স ডেভেলপমেন্টস লিমিটেড আয়োজিত ‘আর্থকুয়েক অ্যাওয়ারনেস, সেফটি প্রটোকল অ্যান্ড ইমার্জেন্সি প্রিপারেডনেস’ শীর্ষক এক সেমিনারে এই উদ্বেগজনক তথ্য তুলে ধরা হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, বাংলাদেশ ভারত, মিয়ানমার ও ইউরেশীয়—এই তিনটি সক্রিয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত এবং ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষ করে সিলেটের ডাউকি ফল্ট, চট্টগ্রাম-টেকনাফের চিটাগং-আরাকান ফল্ট এবং মিয়ানমারের সাগাইং ফল্ট দেশের ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৬ সালের এক গবেষণা অনুযায়ী, এই অঞ্চলে ভূমিকম্পের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয় হলো, সিলেট থেকে টেকনাফ পর্যন্ত সাবডাকশন জোনে গত ৮০০ থেকে ১০০০ বছরের সঞ্চিত শক্তি এখনও মুক্ত হয়নি, যা যেকোনো সময় ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
সেমিনারে অংশগ্রহণকারী জাপানের ভূমিকম্প-সহনশীল স্থাপত্য বিশেষজ্ঞ কেসিরো সাকো এবং হেসাইয়ে সুগিয়ামা ভূমিকম্প-পরবর্তী জাপানের অভিজ্ঞতা এবং নিরাপদ অবকাঠামো নকশা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেন। বক্তারা একমত হন যে, দ্রুত নগরায়ণ, ঘনবসতি এবং বিল্ডিং কোড উপেক্ষা করার কারণে বড় কোনো ভূমিকম্প ঘটলে মানবিক বিপর্যয় ভয়াবহ হতে পারে।
এই ঝুঁকি মোকাবিলায় বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়েছেন—ভূমিকম্প প্রতিরোধী ভবন নির্মাণ, বিদ্যমান ভবনগুলোর কাঠামোগত নিরীক্ষা, কাজের মান কঠোরভাবে তদারকি, জরুরি উদ্ধার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কার্যকর প্রাথমিক সতর্কবার্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর। পাশাপাশি নাগরিকদের নিয়মিত মহড়া ও সচেতনতা কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রস্তুতি নেওয়া অপরিহার্য। জেসিএক্স ডেভেলপমেন্টসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ইকবাল হোসেন চৌধুরী বলেন, রাষ্ট্র, আবাসন খাত ও জনগণ—এই তিনটি স্তম্ভ শক্তিশালী হলেই কেবল ভূমিকম্প ঝুঁকি মোকাবিলা করা সম্ভব।
ইএফ/