চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় কর্মরত অবস্থায় কৌশলে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এক যুবকের বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণ করেছেন আদালত। অভিযুক্ত ব্যক্তি একটি নগদ ডিস্ট্রিবিউশন হাউজের মাঠকর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। একই মামলায় তার বড় ভাইকেও আসামি করা হয়েছে, যিনি চাকরির সময় জিম্মাদার হিসেবে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করেছিলেন।
সোমবার (২২ ডিসেম্বর) বাঁশখালী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। আদালতের এই আদেশের ফলে ঘটনাটি আনুষ্ঠানিক তদন্তের আওতায় এসেছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাঁশখালীর পূর্ব গুনাগরী এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ ইমরান উদ্দীন চৌধুরী (৩১) ‘মা-এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি নগদ ডিস্ট্রিবিউশন হাউজে মাঠকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার কাজ ছিল সাধনপুর ইউনিয়নের বাণীগ্রামসহ আশপাশের এলাকায় নগদের খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতাদের কাছ থেকে লেনদেনের টাকা সংগ্রহ করে অফিসে জমা দেওয়া। এই দায়িত্ব পালনের সময় তার বড় ভাই আবদুল আল নোমান চৌধুরী (৪০) প্রতিষ্ঠানের কাছে জামিনদার হিসেবে যুক্ত ছিলেন।
অভিযোগে বলা হয়, গত ১৮ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত অভ্যন্তরীণ হিসাব যাচাইয়ের সময় বড় ধরনের অসঙ্গতি ধরা পড়ে। তখন দেখা যায়, মাঠ থেকে আদায় করা ৪ লাখ ৯৫ হাজার ৫০০ টাকা অফিসে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করা হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর অভিযুক্ত কর্মচারী হঠাৎ করেই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।
মামলার বাদী মো. ওবাইদুল হক জানান, টাকা উদ্ধারের আশায় ২০ ডিসেম্বর অভিযুক্তদের বাড়িতে গিয়ে পাওনা অর্থ ফেরত চান। কিন্তু সেখানে টাকা দেওয়ার বদলে তারা একে অপরের ওপর দায় চাপিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান। পরে বাধ্য হয়েই আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়।
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এ আর এম তাকছিমুল গনি (ইমন) বলেন, অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় আদালত ডিবিকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দাখিল হলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।