চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ পৌরসভা পটিয়ায় দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার ফলে ভয়াবহ পরিবেশ সংকট তৈরি হয়েছে। চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কের পাশেই খোলা জায়গায় গড়ে উঠেছে হাজার টনের বেশি ময়লার স্তূপ। তীব্র দুর্গন্ধ, মশা-মাছির উপদ্রব ও বিষাক্ত বাতাসে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহারকারী হাজারো যাত্রী।
১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত পটিয়া পৌরসভা এক বছরের মধ্যেই প্রথম শ্রেণির মর্যাদা পেলেও গত ৩৫ বছরে এখানে গড়ে ওঠেনি কোনো স্থায়ী ও আধুনিক ডাম্পিং স্টেশন। প্রায় ৪ বর্গমাইল আয়তনের এই পৌরসভায় লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। প্রতিদিন গৃহস্থালি ও বাণিজ্যিক উৎস থেকে উৎপন্ন বিপুল পরিমাণ বর্জ্য পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ড থেকে সংগ্রহ করে বাহুলী এলাকার মহাসড়কসংলগ্ন খোলা জায়গায় ফেলা হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিশাল এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে থাকা আবর্জনার স্তূপ থেকে উৎকট গন্ধ ছড়াচ্ছে চারদিকে। বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানিতে ময়লা গড়িয়ে পড়ে মূল সড়কে, ফলে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। পাশ দিয়ে চলাচলকারী বাস, ট্রাক এমনকি ট্রেনযাত্রীরাও এই দুর্গন্ধ ও দূষণের শিকার হচ্ছেন। অনেক সময় খোলা জায়গায় বর্জ্য পোড়ানো হলে কালো বিষাক্ত ধোঁয়ায় পুরো এলাকা ঢেকে যায়, যা পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খোলা স্থানে পচা বর্জ্য থেকে নির্গত গ্যাস শ্বাসতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এতে হাঁপানি, ব্রংকাইটিস, নিউমোনিয়া এমনকি দীর্ঘমেয়াদে ফুসফুসের জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ে। শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি।
পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শাখা জানায়, সীমিত জনবল নিয়ে নিয়মিত পরিষ্কার কার্যক্রম চালানো হলেও আধুনিক অবকাঠামোর অভাবে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব হচ্ছে না। পৌর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ডাম্পিং স্টেশন স্থাপনের জন্য একটি জায়গা নির্ধারণ করা হলেও আইনি জটিলতার কারণে কাজ শুরু করা যাচ্ছে না।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত একটি আধুনিক ডাম্পিং স্টেশন স্থাপন এবং পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু না হলে এই সংকট আরও ভয়াবহ রূপ নেবে।