বুধবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবিতে করা আপিলের পঞ্চম দিনের শুনানি শুরু হয়। প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সাত সদস্যের পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

আবেদনের পক্ষে শুনানি করছেন ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির। এর আগে চতুর্থ দিনের শুনানিতে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। তৃতীয় দিনের শুনানিতে ইন্টারভেনর হিসেবে বক্তব্য দেন ব্যারিস্টার এহসান এ সিদ্দিকী। দ্বিতীয় দিনে রিটকারী বদিউল আলম মজুমদারের পক্ষে শুনানি শেষ করেন ড. শরীফ ভূঁইয়া।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে এই আপিলের ইতিহাস দীর্ঘদিনের। ১৯৯৬ সালে সংবিধানে ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে এ ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত হয়। পরে ১৯৯৮ সালে আইনজীবী এম সলিমউল্লাহসহ তিনজন এ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন। ২০০৪ সালে হাইকোর্ট রায় দেন যে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বৈধ। তবে ২০১১ সালের ১০ মে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে এই সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করে।

এর পরই পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপ করা হয়। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিষয়টি পুনরায় আলোচনায় এসেছে। সরকার পরিবর্তনের পর ৫ আগস্ট সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচ বিশিষ্ট ব্যক্তি রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন। তাদের সঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারও আপিল দায়ের করেছেন।

বুধবারের শুনানিতে মূলত সংবিধান সংশোধনের সাংবিধানিক সীমা, ভোটার আস্থা ও নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে বিস্তারিত যুক্তি উপস্থাপন করা হচ্ছে।