স্বতন্ত্র চাকরি-বিধিমালা প্রণয়ন না হওয়ায় অবশেষে কঠোর অবস্থানে গেলেন ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) নিয়মিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাদের পূর্বঘোষিত আল্টিমেটাম অনুযায়ী ৯ ডিসেম্বরের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত সার্ভিস রুল প্রকাশ না হওয়ায় আগামী শুক্রবার সকাল ৭টা থেকে শুরু হচ্ছে সর্বাত্মক কর্মবিরতি। এর ফলে মেট্রোরেলের সব ধরনের যাত্রী সেবা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকছে।

বৃহস্পতিবার পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রতিদিন ডিএমটিসিএল প্রধান কার্যালয়ের সামনে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে নিয়মিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

ডিএমটিসিএলের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করলেও ১২ বছরেও চূড়ান্ত হয়নি তাদের চাকরি-বিধিমালা। প্রায় ৯০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী দিন-রাত দায়িত্ব পালন করলেও ছুটি, শিফট-অ্যালাউন্স, গ্র্যাচুইটি, সিপিএফ, ওভারটাইম, গ্রুপ ইনস্যুরেন্সসহ মৌলিক সুবিধা থেকে তারা বঞ্চিত। ২০২২ সালে মেট্রোরেলের বাণিজ্যিক অপারেশন শুরু হওয়ার পরও উন্মুক্ত নিয়োগে যোগ দেওয়া কর্মীদের অবস্থার কোনো সুব্যবস্থা হয়নি।

২০২৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর উপদেষ্টা কমিটি ৬০ কর্মদিবসের মধ্যে সার্ভিস রুল প্রণয়নের নির্দেশ দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে আন্দোলনের মুখে ২০ মার্চের মধ্যে নিয়ম চূড়ান্ত করার আশ্বাস দিল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত না হওয়ায় ক্ষোভ আরও বাড়ে কর্মীদের মধ্যে।

কর্মচারীরা অভিযোগ করেন, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত আলোচনায় পরিচালনা পর্ষদ সার্ভিস রুলের প্রায় সব ধারা নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছালেও ‘বিশেষ বিধান’ সংক্রান্ত অধ্যায়ই প্রধান বাধা। ওই বিধানে মেট্রোরেল প্রকল্পের জনবলকে ডিএমটিসিএলে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে, যা তাদের দাবি—বিদ্যমান আইন ও সুপ্রিম কোর্টের রায়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। পরিচালনা পর্ষদও বিতর্কিত ধারাটি বাদ দিতে আগ্রহী, তবে ডিএমটিসিএল ব্যবস্থাপনার চাপেই সার্ভিস রুল প্রকাশ বিলম্বিত হচ্ছে বলে কর্মচারীদের অভিযোগ।

কর্মবিরতি শুরুর পর যাত্রী সেবা বন্ধ হয়ে কয়েক লাখ যাত্রী মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে কর্মচারীদের দাবি—এই পরিস্থিতির সম্পূর্ণ দায় ডিএমটিসিএল ব্যবস্থাপনার। “চাকরি-বিধিমালা ছাড়া ভবিষ্যৎ, বেতন-সুবিধা বা ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত নয়। তাই আর কোনো আশ্বাস নয়, প্রকাশিত সার্ভিস রুলই একমাত্র সমাধান”—বলেছেন আন্দোলনকারীরা।