নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতকে নীতিগতভাবে অগ্রাধিকার না দেওয়ার কারণে বাংলাদেশে ২০৫০ সালের মধ্যে নির্ধারিত নবায়নযোগ্য জ্বালানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে—এমন মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। তার মতে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দীর্ঘদিনের ভুল নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং সুশাসনের ঘাটতি এই সংকটকে আরও গভীর করছে।

বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে টিআইবি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন: সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। সেখানে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৯৫ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর, আর নবায়নযোগ্য জ্বালানির অবদান ৪ শতাংশের সামান্য বেশি। এই বাস্তবতা প্রমাণ করে যে, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত ধারাবাহিকভাবে অবহেলার শিকার হয়েছে।

প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মোট স্থাপিত সক্ষমতা ২৮ হাজার ৬১৬ মেগাওয়াট হলেও নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে আসে মাত্র ১ হাজার ৩১৪ মেগাওয়াট। ২০১০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার বিদেশি বিনিয়োগ হলেও এর প্রায় ৯৭ শতাংশ গেছে জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক প্রকল্পে। নবায়নযোগ্য খাতে বিনিয়োগ হয়েছে মাত্র ৩ শতাংশের কিছু বেশি।

গবেষণায় আরও বলা হয়, জ্বালানি নীতিতে লক্ষ্য ও পরিকল্পনার মধ্যে অসংগতি, প্রকল্প অনুমোদন ও দরপত্র প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব, ভূমি অধিগ্রহণে অনিয়ম এবং দুর্বল প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা নবায়নযোগ্য জ্বালানির অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করছে। বিশেষ করে টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডা) কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না বলেও উল্লেখ করা হয়।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “বিদ্যুৎ খাত দুর্নীতিপ্রবণ হিসেবে পরিচিত। দুর্ভাগ্যজনকভাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতও সেই একই সমস্যায় আক্রান্ত।” তার মতে, নীতিগত অগ্রাধিকার, সুশাসন এবং দেশীয় সক্ষমতা বাড়ানো ছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে ন্যায়সংগত রূপান্তর সম্ভব নয়। অন্যথায় ২০৫০ সালের লক্ষ্য কেবল কাগজেই থেকে যাবে।