বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বায়ুর শহরগুলোর তালিকায় আবারও শীর্ষস্থান দখল করেছে ভারতের রাজধানী দিল্লি। বুধবার সকালে আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণ প্ল্যাটফর্ম আইকিউএয়ারের স্কোরিংয়ে দিল্লির এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) ছিল ২৫৪, যা ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।

একই সময়ে তালিকার তৃতীয় অবস্থানে ছিল বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। সকাল সাড়ে ৯টার পর প্রকাশিত আইকিউএয়ারের প্রতিবেদন অনুযায়ী ঢাকার স্কোর ছিল ২০৫। এ মাত্রার দূষণ জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেন, বিশেষত শিশু, বৃদ্ধ এবং শ্বাসতন্ত্রজনিত রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য।

দূষণের বৈশ্বিক তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারতের কলকাতা, যার স্কোর ২০৭। চতুর্থ স্থানে ইরাকের বাগদাদ (স্কোর ২০২) এবং পঞ্চম স্থানে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর, যার সূচক ১৯৭। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার বড় শহরগুলোতে শীত মৌসুমে বায়ুদূষণ বাড়ার এই প্রবণতা নতুন নয়; তবে চলতি মৌসুমে দূষণের মাত্রা আগেভাগেই উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে বলে পর্যবেক্ষকদের মন্তব্য।

বায়ুদূষণ পর্যবেক্ষণকারী সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার বাতাসের মান ০ থেকে ৫০০ স্কেলে পরিমাপ করে। তাদের মানদণ্ডে ০–৫০ ভালো, ৫১–১০০ মাঝারি, ১০১–১৫০ সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ, ১৫১–২০০ সাধারণ জনগণের জন্য অস্বাস্থ্যকর এবং ২০১–৩০০ খুবই অস্বাস্থ্যকর বলে বিবেচিত। ৩০১–এর বেশি স্কোরকে ‘বিপর্যয়কর’ বা ‘দুর্যোগপূর্ণ’ ধরা হয়।

ঢাকার একিউআই ২০০–এর ওপরে উঠলে সাধারণত স্কুল–কলেজে উপস্থিতি কমে যায় এবং হাসপাতালের শ্বাসতন্ত্র বিভাগগুলোতে রোগীর চাপ বাড়ে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন এ ধরনের দিনে বাইরে বের হলে অবশ্যই মাস্ক পরা, দীর্ঘ সময় বাইরে অবস্থান এড়িয়ে চলা এবং শিশু–বৃদ্ধদের ঘরে রাখার।

পরিবেশবিদদের মতে, যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণকাজের ধুলাবালি, শিল্পকারখানার নির্গমন এবং শীতকালে বাতাসের গতি কমে যাওয়া এই চারটি কারণে ঢাকার বায়ুদূষণ প্রতিনিয়ত ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। টেকসই ব্যবস্থাপনা ও কঠোর নিয়ন্ত্রণ ছাড়া এ পরিস্থিতি দ্রুত উন্নত হওয়া সম্ভব নয় বলে তারা সতর্ক করেন।