এক রাতে রাজধানীর পাঁচটি স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। আগারগাঁও, মিরপুর, হাতিরঝিল, পল্লবী ও বিমানবন্দর এলাকায় হামলা হয়। এসব ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও মানুষের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। পুলিশ বলছে, ঘটনাগুলোর সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্তে অভিযান চলছে।

আগারগাঁও

শনিবার রাত ৯টা ১০ মিনিটে আগারগাঁওয়ের এডিবি ভবনের পাশে ডিউটিরত পুলিশ সদস্যদের খুব কাছেই ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় দুর্বৃত্তরা। তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান বলেন, ‘এডিবি ভবনের সামনের সড়কে হঠাৎ একটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তখন পাশেই আমাদের পুলিশ ডিউটি করছিল। মোটরসাইকেলে এসে অতর্কিতভাবে তারা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায়। আমরা সিসি ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে আমরা কাজ করছি।’

মিরপুর ও হাতিরঝিল

শনিবার সোয়া ৭টার মধ্যে মিরপুর ও হাতিরঝিল এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে হাতিরঝিল এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণে একটি মোটরসাইকেল ক্ষতিগ্রস্ত হলেও মিরপুরে কোনো ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে পুলিশ। মিরপুরের বিআরটিএ কার্যালয়ের ভেতরে সন্ধ্যা ৬টায় বিস্ফোরণ ঘটে। এর কিছুক্ষণ পর হাতিরঝিল মধুবাগ ব্রিজের ওপর থেকে নিচের সড়কে ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। হাতিরঝিল থানার ডিউটি অফিসার উপপরিদর্শক ফুয়াদ আহমেদ বলেন, ‘সংবাদ পাওয়ার পরই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। বিস্ফোরণটি তদন্ত করা হচ্ছে।’

পল্লবী

সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে পল্লবী মেট্রো স্টেশনের ১৭৭ নম্বর পিলারের নিচে পরপর একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। স্থানীয়রা জানান, মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা ককটেল নিক্ষেপ করে দ্রুত পালিয়ে যায়। হঠাৎ বিস্ফোরণে মেট্রো স্টেশনে থাকা যাত্রীরা আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করেন। পল্লবী থানা পুলিশ জানায়, ‘ঘটনার পরপরই টিম ঘটনাস্থলে গেছে। জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে।’

বিমানবন্দর রেলস্টেশন

শনিবার রাত ১১টা ১০ মিনিটে বিমানবন্দর রেলস্টেশনের এক নম্বর প্ল্যাটফর্মে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় দুর্বৃত্তরা। বিমানবন্দর থানার ডিউটি অফিসার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাসুদ পারভেজ বলেন, ‘রাতে বিমানবন্দর রেলস্টেশনের এক নম্বর প্ল্যাটফর্মে একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় দুর্বৃত্তরা।‌ এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। বিষয়টি রেলওয়ে পুলিশ দেখছে। আমরা জেনেছি দুর্বৃত্তরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছে।’

ইএফ/