চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় র্যাব কর্মকর্তা মো. মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় টানা তিন দিনের অভিযানে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত সময়ের মধ্যে তাদের আটক করা হয়। গ্রেপ্তারদের মধ্যে দুজন এজাহারভুক্ত এবং একজন তদন্তে উঠে আসা আসামি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
চট্টগ্রাম র্যাবের সহকারী পরিচালক এ আর এম মোজাফফর হোসেন জানান, হত্যামামলার এজাহারে উল্লেখ থাকা আলীরাজ হাসান ওরফে সাগরকে প্রথমে কক্সবাজার সদর এলাকা থেকে আটক করা হয়। পরদিন নগরের খুলশী থানার ইস্পাহানি মোড় এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হন আরেক আসামি মো. মিজান। সর্বশেষ সোমবার নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার বগুড়া নিবাস এলাকা থেকে তদন্তে প্রকাশ পাওয়া মো. মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে মামলায় মোট চারজনকে আটক করা হয়েছে।
এর আগে ১৯ জানুয়ারি বিকেলে সন্ত্রাসীদের হামলায় র্যাবের উপসহকারী পরিচালক মোতালেব হোসেন গুরুতর আহত হন। একই ঘটনায় র্যাবের আরও তিন সদস্য এবং একজন তথ্যদাতা আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মোতালেব হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত কর্মকর্তা বিজিবির নায়েব সুবেদার ছিলেন এবং প্রেষণে র্যাবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
এ ঘটনায় ২২ জানুয়ারি র্যাবের এক কর্মকর্তা বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ২৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘটনার দিন জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় একটি রাজনৈতিক কার্যালয় উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে বিপুল লোকসমাগম হয়। ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার সম্ভাব্য তথ্যের ভিত্তিতে র্যাবের একটি দল সেখানে অভিযান চালাতে গেলে হামলার শিকার হয়। একপর্যায়ে কয়েকজন র্যাব সদস্য ও তথ্যদাতাকে আটক করে তাদের কাছ থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং মারধর করা হয়।
জঙ্গল সলিমপুর এলাকা দীর্ঘদিন ধরে পাহাড় দখল, অবৈধ বসতি ও সরকারি জমি নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে সশস্ত্র সংঘাতের জন্য পরিচিত। হাজার কোটি টাকার খাস জমির আধিপত্য নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপগুলোর মধ্যে চলমান বিরোধই সর্বশেষ এই সহিংস ঘটনার পেছনে প্রধান কারণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।