দীর্ঘ ৬ হাজার ৩১৪ দিন পর দেশে ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাকে বহনকারী উড়োজাহাজটি বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) মুখপাত্র কাওছার মাহমুদ অবতরণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া শেষে বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে ফুল দিয়ে তারেক রহমানকে স্বাগত জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় তিনি দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ উপস্থিত নেতাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও আলিঙ্গন করেন। পরে তার শাশুড়ি ফুলের মালা দিয়ে তাকে বরণ করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান, কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।
এর আগে যুক্তরাজ্যের লন্ডন থেকে রওনা হয়ে সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে তারেক রহমানকে বহনকারী উড়োজাহাজটি সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখানে স্বল্প যাত্রাবিরতির পর বেলা ১১টা ১২ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশে ফ্লাইটটি পুনরায় যাত্রা শুরু করে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার (ফ্লাইট নম্বর বিজি-২০২) স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়। প্রায় ১৭ বছর পর দেশে ফেরার এ যাত্রায় তারেক রহমানের সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ও কন্যা।
বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, বিমানবন্দর থেকে লাল-সবুজে সজ্জিত একটি বিশেষ বুলেটপ্রুফ বাসে করে তারেক রহমান প্রথমে এভারকেয়ার হাসপাতালে যাবেন। বাসটিতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান, চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের প্রতিকৃতি এবং ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান সংবলিত ব্যানার রয়েছে। পথে তিনি একটি সংক্ষিপ্ত সংবর্ধনা কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।
এ উপলক্ষে বিএনপি ৩০০ ফিট সড়ক নামে পরিচিত ৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়েতে একটি সংক্ষিপ্ত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। সেখানে তারেক রহমান দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাবেন এবং মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করবেন। এরপর তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে এবং পরে গুলশান অ্যাভিনিউয়ে মা খালেদা জিয়ার বাসভবন ‘ফিরোজা’র পাশের ১৯৬ নম্বর বাসায় যাবেন।
উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে ১/১১ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তারেক রহমান গ্রেপ্তার হন। এক বছর কারাভোগের পর ২০০৮ সালে মুক্তি পেয়ে চিকিৎসার জন্য স্ত্রী ও কন্যাকে সঙ্গে নিয়ে লন্ডনে যান। এরপর থেকে তিনি সেখানে অবস্থান করছিলেন।
দেশের আকাশসীমায় প্রবেশের পর তারেক রহমান তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে লেখেন,
“দীর্ঘ ৬ হাজার ৩১৪ দিন পর বাংলাদেশের আকাশে!”