ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সামগ্রিক রাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থার প্রেক্ষাপটে নজরদারি প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন নজরদারি প্রযুক্তির সংগ্রহ ও ব্যবহার পর্যালোচনা কমিটি দীর্ঘ পর্যালোচনা শেষে এই চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। এতে রাষ্ট্রের নজরদারি সক্ষমতা, তার কার্যকারিতা এবং একই সঙ্গে বিদ্যমান আইনি ও কারিগরি সীমাবদ্ধতাগুলোর বিশদ বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার নিকট প্রতিবেদন হস্তান্তর করা হয়। বুধবার রাতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করে। প্রতিবেদনে জাতীয় নিরাপত্তা, জরুরি প্রাণরক্ষা, জননিরাপত্তা ও বিচারিক প্রয়োজনে নজরদারি প্রযুক্তির প্রয়োজনীয়তার পাশাপাশি নাগরিকের গোপনীয়তার সাংবিধানিক অধিকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্যে কমিটি আটটি নির্দিষ্ট মানদণ্ডের আলোকে আটটি সুপারিশ উত্থাপন করেছে।

কমিটির প্রতিবেদনে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক বাস্তবতার একটি সমন্বিত চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। একদিকে গুম, বেআইনি আটক ও গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ, অন্যদিকে নজরদারির মাধ্যমে অপরাধ দমন ও সন্ত্রাস প্রতিরোধে রাষ্ট্রীয় সাফল্য—এই দুই বিপরীত বাস্তবতার আলোকে নজরদারি ব্যবস্থার ঝুঁকি ও সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করা হয়েছে। বিদ্যমান আইন, নীতিমালা, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার মধ্যে যে শাসনগত ঘাটতি রয়েছে, তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সংস্কারের ক্ষেত্রগুলো নির্ধারণ করাই ছিল প্রতিবেদনের অন্যতম লক্ষ্য।

প্রতিবেদনে এনটিএমসি বিলুপ্তির প্রস্তাবসহ টেলিযোগাযোগ আইন ২০০১-এর ৯৭, ৯৭ক, ৯৭খ ও ৯৭গ ধারার সংস্কারের একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তুলে ধরা হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ইতোমধ্যে সংশোধিত টেলিযোগাযোগ আইন গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে আরও গভীর তদন্ত ও অনুসন্ধানের সুপারিশও করেছে কমিটি।

এই প্রতিবেদন প্রণয়নের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকারকে মুখোমুখি অবস্থানে নয়, বরং পরস্পরকে পরিপূরক হিসেবে দেখার একটি নীতিগত কাঠামো গড়ে তোলার প্রয়াস নেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।