ঢাকায় নিযুক্ত নতুন ফরাসি রাষ্ট্রদূত জ্যাঁ-মার্ক সেরে-শারলে জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যে বহুমাত্রিক সহযোগিতায় নতুন অধ্যায় শুরু করার জন্য প্যারিস প্রস্তুত। গণতন্ত্র, উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে দুই দেশের অবস্থান ঘনিষ্ঠ হওয়ায় ভবিষ্যৎ অংশীদারত্ব আরও দৃঢ় হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মঙ্গলবার রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে রাষ্ট্রদূত এ মন্তব্য করেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি ছিল তার প্রথম গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সাক্ষাৎ।
রাষ্ট্রদূত জানান, জাতীয় নির্বাচন ঘিরে বাংলাদেশ এখন এক রূপান্তরকালের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। তিনি বলেন, “এই মুহূর্তটি বাংলাদেশ–ফ্রান্স অংশীদারত্ব এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য অত্যন্ত উপযুক্ত সময়। সামনের নির্বাচনের মাধ্যমে দেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে প্রবেশ করবে।”
তিনি আরও বলেন, ভারতের মহাসাগরীয় অঞ্চল ও প্রশান্ত মহাসাগরজুড়ে ফ্রান্সের ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলে বাংলাদেশ এখন কেন্দ্রীয় অবস্থানে রয়েছে। বর্তমানে এ অঞ্চলে প্রায় ১৫ লাখ ফরাসি নাগরিকের বসবাস ফ্রান্সকে এ ভূগোলের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত করে রেখেছে। সেরে-শারলে মন্তব্য করেন, “বাংলাদেশকে ঘিরে আঞ্চলিক সংযোগ ও মুক্ত বাণিজ্যের যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তা কাজে লাগাতে আমরা আরও সক্রিয় হতে চাই।”
ভবিষ্যৎ নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে রাষ্ট্রদূত বলেন, ইউরোপের কিছু দেশে নির্বাচনী সময়ে বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা ও সামাজিক মেরুকরণের মতো চ্যালেঞ্জ দেখা গেছে; বাংলাদেশকেও এমন ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক থাকতে হতে পারে।
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ফ্রান্সকে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের নির্ভরযোগ্য উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের ইতিমধ্যে নেওয়া সংস্কার কর্মসূচি ও নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন। পাশাপাশি গণতন্ত্র, মানবাধিকার, জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে ফরাসি সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।
রাষ্ট্রদূত আশ্বস্ত করেন, বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন করতে ফ্রান্স সহযোগিতা আরও জোরদার করবে এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় দুই দেশ যৌথ উদ্যোগ এগিয়ে নেবে।