ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শুক্রবার রাত ৯টার দিকে হাদির বড় ভাই ওমর বিন হাদির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন তিনি এবং ঘটনার নিন্দা জানিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং রাতেই এক বিবৃতিতে জানায়, ফোনালাপে ড. ইউনূস বলেন—“ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনা আমাদের খুবই ব্যথিত করেছে। উপদেষ্টা পরিষদ এই হামলাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।” তিনি আরও জানান, ঘটনার পরপরই কয়েকজন উপদেষ্টা এবং আইন–শৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন তিনি। বৈঠকে হামলাকারীদের দ্রুত চিহ্নিত ও গ্রেপ্তারের জন্য কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ওমর বিন হাদিকে আশ্বস্ত করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “হাদির চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় সব ব্যয় সরকার বহন করবে। দেশে অথবা বিদেশে—যেখানে সর্বোত্তম চিকিৎসা পাওয়া যাবে, সেখানেই তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।” তিনি হাদির শারীরিক অবস্থার অবনতি রোধে দেশসেরা বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিশ্চিত করার কথাও উল্লেখ করেন।

হাদির মস্তিষ্কে গুলির অংশ রয়ে গেছে—এসব উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশিত হওয়ার পর সামাজিকমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। এ পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা এবং দোষীদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে সরকারের কঠোর অবস্থান সাধারণ মানুষের মধ্যেও আশা জাগিয়েছে।

ফোনালাপে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “হাদি আমাদের সবার অত্যন্ত প্রিয় মানুষ। তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করি। তিনি খুব শিগগিরই সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসবেন—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”

হামলার ঘটনার পর থেকেই ওসমান হাদির সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা দেশজুড়ে দোষীদের দ্রুত বিচার এবং কার্যকর তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছেন। সরকারের পক্ষ থেকে জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণায় তারা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন বলেও জানা গেছে।