ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও সংগঠক ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিকে দ্রুত জীবিত অবস্থায় গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, এই হত্যার ঘটনায় ‘বন্দুকযুদ্ধের নামে কোনো সাজানো নাটক’ তারা মেনে নেবে না।
রোববার (২১ ডিসেম্বর) সংগঠনটির ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, “খুনিকে জীবিত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। আমরা বিচার চাই, নাটক নয়।” বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের প্রকৃত পরিকল্পনাকারী ও মদদদাতাদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
হত্যাকাণ্ডের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এনেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সংস্থাটি জানায়, মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান রাহুল এবং তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে ১২৭ কোটির বেশি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন শনাক্ত করা হয়েছে। এসব আর্থিক লেনদেন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে জড়িত থাকতে পারে বলে তদন্তকারীরা ধারণা করছেন।
এ ছাড়া তদন্তের স্বার্থে একই দিন আদালত ফয়সাল করিমের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন, যাতে তিনি বিদেশে পালিয়ে যেতে না পারেন।
গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স-কালভার্ট রোডে রিকশায় যাওয়ার সময় মোটরসাইকেল আরোহী এক সন্ত্রাসী ওসমান হাদির মাথায় গুলি চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে ছয় দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।
১৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় বিমান বাংলাদেশের একটি ফ্লাইটে তার মরদেহ দেশে আনা হয়। পরদিন ২০ ডিসেম্বর বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পাশে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধি প্রাঙ্গণে তাকে দাফন করা হয়।
ওসমান হাদি ছিলেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক। ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠনের লক্ষ্যে তিনি রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্ম ‘ইনকিলাব মঞ্চ’ প্রতিষ্ঠা করেন। পাশাপাশি গড়ে তোলেন ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছিলেন তিনি।