ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রধান উপদেষ্টা বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব জানিয়েছেন, দেশের ডিজিটাল ইকোসিস্টেমকে আরও শক্তিশালী করতে সরকার ডিভাইস, ডেটা এবং সেবাখাতে একযোগে নীতি-সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। এতে স্মার্টফোনের সহজলভ্যতা, সুলভ ডেটা এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেবার সম্প্রসারণ হবে, যা দেশের ডিজিটাল রূপান্তরকে ত্বরান্বিত করবে।
মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ হাইটেক পার্কে স্মার্টফোন ও ডিভাইস নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অনার বাংলাদেশের নতুন কারখানা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, “দেশে বর্তমানে স্মার্টফোনের প্রবেশহার ৪১–৪৫ শতাংশ। সঠিক নীতি ও বৈধ আমদানি নিশ্চিত করলে এটি কয়েক বছরের মধ্যে ৭০–৮০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। স্মার্টফোন নাগরিক সেবার প্রধান মাধ্যম হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব আরও জানান, দেশের ডিজিটাল ইকোসিস্টেমের স্থায়িত্বের জন্য সংযোগ, ডিভাইস এবং সেবা—এই তিনটি ক্ষেত্র একসাথে এগোতে হবে। এজন্য আইসিটি বিভাগ, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এবং বিটিআরসি একত্রে নীতি-সংস্কার ও শিল্পের গতিশীলতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে। স্মার্টফোন উৎপাদন লাইন ইতিমধ্যেই উদ্বোধন করা হয়েছে এবং আগামী বছর আরও চারটি লাইন চালু হবে, যা কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং দক্ষ স্থানীয় কর্মী ও উদ্যোক্তা তৈরিতে সহায়ক হবে।
সরকার অবৈধ স্মার্টফোন আমদানি রোধে কার্যক্রম ত্বরান্বিত করছে এবং ১৬ ডিসেম্বর থেকে এনইআই কার্যক্রম শুরু হবে। স্থানীয় উৎপাদন ও বৈধ আমদানিকে উৎসাহিত করতে শুল্ক কাঠামো পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে। পাশাপাশি, টেলিকম লাইসেন্সিং নীতিমালা পুনর্গঠন ও সাবমেরিন ক্যাবল সংযোজনের মাধ্যমে দেশের ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, “স্থানীয় উৎপাদন ও বৈধ আমদানি বাড়ালে দেশের স্মার্টফোন প্রবেশহার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। নীতি-সহায়তা এবং অবকাঠামোর ধারাবাহিকতায় বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘমেয়াদি আস্থা পাবেন এবং ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে পরিচিতি লাভ করবে।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী, বাংলাদেশ হাইটেক পার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক একেএম আমিরুল ইসলাম এবং স্মার্ট টেকনোলজিসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম।