আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবসের আলোচনায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও সামাজিক সদিচ্ছার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন সরকারের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। তার মতে, সৎ ও দায়িত্বশীল রাজনৈতিক নেতৃত্ব থাকলে সমাজে অনিয়মের বিস্তার কমবে এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাও হবে আরও কার্যকর।

মঙ্গলবার সকালে শিল্পকলা একাডেমিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আয়োজিত আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, “সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো রাজনৈতিক সদিচ্ছা। রাজনীতিবিদরা ঠিক থাকলে সমাজে পচন ধরবে না; বরং দুর্নীতি কমে আসবে।” তিনি আরও বলেন, দুর্নীতি রোধে শুধু আইন নয়, প্রয়োজন শক্তিশালী সামাজিক প্রতিরোধ—যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দুর্বল হয়ে পড়েছে।

সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, একসময় দুর্নীতিগ্রস্ত মানুষকে সামাজিকভাবে বর্জন করা হতো, তাদের পরিবারও এ কারণে অপমানের মুখে পড়ত। কিন্তু এখন সমাজে উল্টো চিত্র—দুর্নীতিবাজদেরই সম্মান দেওয়া হচ্ছে। “সমাজের মানুষ দুর্নীতির প্রতি ঘৃণা হারিয়েছে, এটিই সবচেয়ে বড় সংকট,” মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ঘাটতির কথাও উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে, কিন্তু সেসব মামলার শাস্তি কার্যত অনুপस्थित। “এ ধরনের ক্ষতি কখনো পুষিয়ে দেওয়া যায় না,” বলেন অর্থ উপদেষ্টা।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক বলেন, বিশ্বে কোথাও শুধু শাস্তি দিয়ে দুর্নীতি নির্মূল হয়নি। দুর্নীতি এখন ‘এক ধরনের বিজ্ঞান’—যেখানে প্রতিনিয়ত নতুন কৌশল তৈরি হচ্ছে। বাংলাদেশের প্রায় ১৪–১৫ ধরনের দুর্নীতি বিদ্যমান, কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ঘুষ নিয়ে কাজ করা হয়, যা যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

দুদক কমিশনার (অনুসন্ধান) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহসান ফরিদ বলেন, সরকারি প্রকল্পগুলোর সব তথ্য অনলাইনে প্রকাশ করা জরুরি। প্রকল্পের অগ্রগতি কিংবা অর্থ ব্যয়ের যে কোনো আপডেট জনগণের জানার অধিকার রয়েছে। “টাকা একবার চুরি হলে তা উদ্ধার কঠিন—তাই আগেভাগেই সতর্ক থাকা প্রয়োজন,” বলেন তিনি।

দুদক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কমিশনার (তদন্ত) মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী, দুদক সচিব মোহাম্মদ খালেদ রহীমসহ কমিশনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।