জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ভিন্ন দেশের জাতীয় পতাকা অঙ্কনের ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। ঘটনাটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃতি ও শালীনতার পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেছেন শিক্ষক নেতারা।
বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদের এক সভায় এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় উপস্থিত শিক্ষক নেতারা জানান, বিষয়টি নিয়ে বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত দাবি জানানো হবে।
শিক্ষক সমিতির কোষাধ্যক্ষ ও মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে অন্য দেশের জাতীয় পতাকা অঙ্কন এবং প্রশাসনিক ভবন অবরুদ্ধ করে অতিথিসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আটকে রাখার ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ ও মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।”
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হবে।
এ বিষয়ে শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন বলেন, “ক্যাম্পাসে ভিনদেশের জাতীয় পতাকা অঙ্কন করে তা নিয়ে প্রতীকী সম্মান বা অবমাননা—কোনোটিই কাম্য নয়। শিক্ষক সমিতি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে।”
উল্লেখ্য, গত ১৫ ডিসেম্বর সম্পূরক বৃত্তির দাবিতে আন্দোলনের অংশ হিসেবে আস-সুন্নাহ প্রকল্পের কয়েকজন শিক্ষার্থী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন অবরুদ্ধ করেন। এ সময় উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পাশাপাশি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আগত অতিথি শিক্ষকরা ভবনের ভেতরে আটকে পড়েন।
একই রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ও প্রশাসনিক ভবনের সামনে ভারত ও পাকিস্তানের জাতীয় পতাকার ছবি অঙ্কন করে প্রতীকী প্রতিবাদ জানানো হয়, যা পরে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।
শিক্ষক সমিতির নেতারা মনে করছেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড ক্যাম্পাসের শিক্ষার পরিবেশ ও মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করে। দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে।