ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ঐতিহ্যবাহী ও রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্র মধুর ক্যান্টিনে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) বিকেলে হঠাৎ করে এক অজ্ঞাত যুবক ক্যান্টিন এলাকায় হামলা চালান। ঘটনার পরপরই উপস্থিত শিক্ষার্থীদের সহায়তায় তাকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে নেওয়া হয়।

ভাঙচুরের ঘটনার একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা নিয়ে ক্যাম্পাসজুড়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, অভিযুক্ত যুবক এলোমেলো ও অসংলগ্ন কথা বলছেন এবং তার আচরণ স্বাভাবিক মনে হচ্ছিল না। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষার্থী ও সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ পেতে দেখা যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার শুরুতে ওই যুবক মধুর ক্যান্টিনের সামনে টাঙানো একটি পোস্টার ছিঁড়ে ফেলতে চেষ্টা করেন। এ সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে বাধা দিতে গেলে তিনি উত্তেজিত হয়ে ক্যান্টিনের ভেতরে ঢুকে পড়েন। এরপর সেখানে থাকা চেয়ার-টেবিল ছুড়ে ফেলে ভাঙচুর চালান। হঠাৎ এমন আচরণে ক্যান্টিনে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা তাকে ঘিরে ধরে পরিচয় জানতে চাইলে তিনি নিজের নাম ‘সাগর’ বলে জানান এবং বাড়ি কুমিল্লা বলে দাবি করেন। তবে তিনি কেন ক্যান্টিনে এমন ভাঙচুর চালালেন, সে বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট উত্তর দিতে পারেননি। তার কথাবার্তা ও আচরণে মানসিক ভারসাম্যহীনতার ইঙ্গিত পাচ্ছিলেন বলে জানান একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী।

ঘটনার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অভিযুক্ত যুবককে প্রাথমিকভাবে আটক করে প্রক্টর অফিসে নেওয়া হয়েছে। সেখানে তার পরিচয় ও ঘটনার পেছনের কারণ জানার চেষ্টা চলছে। প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। ফলে অভিযুক্ত যুবকের বিরুদ্ধে কী ধরনের শাস্তিমূলক বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

উল্লেখ্য, মধুর ক্যান্টিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও রাজনীতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত একটি স্থান। এখানে এ ধরনের ভাঙচুরের ঘটনায় ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। তারা দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।