রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগের জেরে দুই সহকারী অধ্যাপককে বিভাগের সকল ধরনের কার্যক্রম থেকে সাময়িক অব্যাহতি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সোমবার (২৩ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। অব্যাহতিপ্রাপ্ত দুই শিক্ষক হলেন সহকারী অধ্যাপক সাজু সরদার এবং তানজিল ভূঁঞা।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে আসা অভিযোগ এবং এ সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয় নিয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রথম সভার সুপারিশের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই ব্যবস্থা নিয়েছে।

অব্যাহতিপ্রাপ্ত শিক্ষক তানজিল ভূঁঞা ঘটনার সূত্রপাত সম্পর্কে জানান, চেয়ারম্যান নিয়োগ নিয়ে প্রথমে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। পরে ওয়ার্ল্ড ফ্রিডম ডে উপলক্ষে একটি মেলা আয়োজনের দায়িত্ব তার ওপর পড়লে অন্য শিক্ষক সাজু সরদার তাকে কোনো দায়িত্ব দেননি। এই মেলাকে কেন্দ্র করেই এক সভায় উভয়ের মধ্যে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

তানজিল ভূঁঞা অভিযোগ করেন, তিনি সাজু সরদারকে ১ কোটি ৪১ লাখ টাকা দুর্নীতির বিষয়ে বললে, সাজু সরদার তার (তানজিল ভূঁঞার) ছাত্রীকে বিয়ে করার বিষয়ে ব্যক্তিগত খোঁচা দেন। এরপরই সাজু সরদার একটি পুরোনো ভিডিও সামনে আনেন, যেখানে তানজিল ভূঁঞার স্ত্রীর (সাবেক ছাত্রী) সঙ্গে তার ঝগড়ার দৃশ্য ছিল। এরপর থেকেই সাজু সরদার তাকে প্রতিনিয়ত হেনস্থা করছেন বলে তানজিল ভূঁঞা দাবি করেন।

তানজিল ভূঁঞা আরও বলেন, "আন্দোলনটা প্রথমে তাকে (সাজু সরদার) বহিষ্কারের জন্য হচ্ছিল, কিন্তু পরে সেটা আমার উপরেও আসে। সকল প্রমাণ দেখানোর পরও প্রশাসন আমাদের দুজনের কোন্দলকেই মূল কারণ হিসেবে দেখিয়ে দু’জনকেই অব্যাহতি দিয়েছে।"

অন্যদিকে, আরেক শিক্ষক সাজু সরদার এ বিষয়ে কোনো বিস্তারিত মন্তব্য না করে জানান, প্রশাসনের দেওয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেই সবকিছু পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে এবং তদন্ত কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই এই বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ১০ ও ১১ নভেম্বর বিভাগের শিক্ষার্থীরা সহকারী অধ্যাপক তানজিল ভূঁঞাকে ‘চরিত্রহীন, লম্পট ও সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে তার বহিষ্কারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে। শিক্ষার্থীরা বিভাগের অফিসকক্ষে তালা ঝুলিয়ে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে এই আন্দোলন চালায়।

এই পরিস্থিতিতে গত ১৯ নভেম্বর ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় তদন্তে সিন্ডিকেট সদস্য ও আরবি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. নিজাম উদ্দীনকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সেই কমিটির প্রথম সুপারিশেই দুই শিক্ষককে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হলো।

ইএফ/