ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা–৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার জেরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ক্যাম্পাস। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন এবং জুলাই হামলায় জড়িত শিক্ষকদের বিচার দাবি তুলে রেজিস্টার ভবনের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন জাহাঙ্গীরনগর কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নেতারা।

জাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক আহসান লাবিব বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম নেতৃত্ব ছিলেন শরিফ ওসমান হাদি। তার ওপর যে ন্যক্কারজনক হামলা হয়েছে—তা শুধু ব্যক্তির ওপর নয়, আমাদের আন্দোলনের ওপরও হামলা। হাদি এখন জীবন-মৃত্যুর লড়াইয়ে, আর আমরা নিশ্চুপ থাকতে পারি না।”
তিনি আরও জানান, উপাচার্যকে দ্রুত জুলাই হামলার দায়ীদের বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে বলা হয়েছে। “তালবাহানা চললে আমরা পরিষ্কার জানিয়েছি—জুলাই হামলার বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত রেজিস্টার ভবনের তালা খোলা হবে না।”

তালা দেওয়ার পর জাকসুর সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম বলেন, “জুলাই হামলার সময় অভিযুক্ত যারা ছিলেন—বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষকসহ সেই চক্রের বিচার আজও হয়নি। অথচ তারা এখনো বিভিন্ন দপ্তরে অবস্থান করছে। প্রশাসন এ বিষয়ে নীরব ভূমিকা রাখছে।”

তিনি ঘোষণা দিয়ে বলেন, “জুলাই হামলাকারীদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাসে কোনো ‘টপ প্রায়োরিটি’ কাজ এগোবে না। আমরা পরিষ্কার করে দিচ্ছি—এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা ঐক্যবদ্ধ।”

প্রশাসনিক ভবন ঘিরে শিক্ষার্থীদের স্লোগান, ব্যানার ও বিক্ষোভে পুরো এলাকাজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীরা জানান, হাদির ওপর হামলা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে, আর তার প্রভাব ছাত্রসমাজেও গভীর।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে শিক্ষার্থীদের আল্টিমেটামকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি নজরদারিতে রাখা হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।