ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যার দ্রুত বিচার ও খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় প্রশাসন ভবনের সামনে আয়োজিত এ মানববন্ধনে বিভিন্ন দল-মতের শিক্ষক সংগঠন ও ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা একাত্মতা প্রকাশ করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা জানান, আগামী ১৭ ডিসেম্বরের মধ্যে খুনিদের গ্রেপ্তার না হলে উপাচার্যের কার্যালয় ঘেরাও, প্রশাসনকে লাল কার্ড প্রদর্শনসহ কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে উঠে আসে ক্ষোভ— “১৪৫ দিনেও বিচার কোথায়?”, “তদন্ত কতদূর?”, “ভাই কবরের নিচে, খুনি বাইরে কেন?”, “শিক্ষার্থীরা আপদ, খুনিরা নিরাপদ”— এমন নানা প্রশ্ন।
মানববন্ধনে জিয়া পরিষদ, সাদা দল ও গ্রিন ফোরামের শিক্ষক নেতারা যুক্ত হন। উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন, ড. তোজাম্মেল হোসেন, ড. মতিনুর রহমান, অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমানসহ অন্যান্য শিক্ষক।
ইবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ অভিযোগ করে বলেন, “সাজিদকে হত্যা করা হয়েছে এটা প্রমাণিত। অথচ প্রশাসন ও সিআইডি খুনিদের ধরতে পারছে না। প্রতিদিন ব্রিফিংয়ের আশ্বাস দেওয়া হয়— এই নাটক বন্ধ করতে হবে। প্রয়োজনে ভিসি, প্রোভিসি, ট্রেজারারকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে রাখা হবে।”
গ্রিন ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি সময়মতো রিপোর্ট দিলেও সিআইডি এখনো সত্য প্রকাশ করতে পারেনি। পাঁচ মাসে তদন্তে এমন দেরি প্রশ্ন তৈরি করছে।”
জিয়া পরিষদের কেন্দ্রীয় মহাসচিব অধ্যাপক এমতাজ হোসেন বলেন, “সাজিদ একজন হাফেজ। তার হত্যার বিচার না হলে ইবির মাটি কলঙ্কমুক্ত হবে না। খুনিদের চিহ্নিত করতে এত দীর্ঘসূত্রতা অগ্রহণযোগ্য।”
উল্লেখ্য, গত ১৭ জুলাই শাহ আজিজুর রহমান হলের পুকুর থেকে সাজিদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ভিসেরা রিপোর্টে তার মৃত্যু ‘শ্বাসরোধে হত্যা’ বলে নিশ্চিত হয়। দু’মাস পর তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি, তবে এখনো কোনো গ্রেপ্তার হয়নি।