আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপিকে জনগণ “লাল কার্ড” দেখাবে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ও ডাকসুর এজিএস মু. মহিউদ্দিন খান। নারী নির্যাতনের ধারাবাহিক ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, যাদের হাতে মা-বোনদের নিরাপত্তা নেই, জনগণ তাদের আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় এবং দেশজুড়ে বিএনপি ও ছাত্রদলের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঢাবি শাখা ছাত্রশিবির এই কর্মসূচির আয়োজন করে।

সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে মহিউদ্দিন খান বলেন, “আমরা একটি চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসমুক্ত বাংলাদেশ চাই। সেই লক্ষ্যেই জুলাই মাসে রাজপথে নেমেছি এবং এখনও আন্দোলনে আছি।” তিনি অভিযোগ করেন, গত দেড় বছরে বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপরাধের তালিকা করতে গেলে সাড়ে চারশোরও বেশি পৃষ্ঠার নথি প্রয়োজন হবে।

তিনি আরও দাবি করেন, বিএনপি ও তাদের অঙ্গসংগঠন ছাত্রদল দলবদ্ধভাবে নারী নিপীড়নের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। এসব অপকর্ম আড়াল করতে মিডিয়া ব্ল্যাকআউটের চেষ্টা করা হলেও এখন প্রতিটি মানুষই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে একেকটি গণমাধ্যমে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপির নেতাদের উদ্দেশে কড়া ভাষায় তিনি বলেন, “নিজেদের সংশোধন না করলে রাজনৈতিকভাবে চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকুন।” দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যারা জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ, তাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

সমাবেশে ছাত্রশিবিরের ঢাবি শাখার সেক্রেটারি আশিকুর রহমান বলেন, “আমাদের মা-বোনদের সম্মান রক্ষায় প্রয়োজনে জীবন দিতেও আমরা পিছপা হবো না।” তিনি দাবি করেন, ছাত্র সংসদ নির্বাচনে নারী শিক্ষার্থীদের আস্থা শিবিরের প্রতি প্রতিফলিত হয়েছে।

শাখা শিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদক মু. সাজ্জাদ হোসাইন খান বলেন, টিআইবির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে—গত দেড় বছরে সংঘটিত অপরাধের বড় অংশের সঙ্গে বিএনপির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এসব তথ্য গোপন করতে নানা চাপ প্রয়োগ করা হলেও সত্য চাপা দেওয়া সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এর আগে সন্ধ্যা ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।