পবিত্র মাহে রমজানকে স্বাগত জানিয়ে প্রথম তারাবি নামাজেই রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গণ পরিণত হয় এক গভীর ঈমানি আবেশের মিলনমেলায়। এশার নামাজের আগেই মুসল্লিদের ঢল নামে দেশের সর্ববৃহৎ এই মসজিদে। শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ—সব বয়সী মুসল্লির স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে সরেজমিনে দেখা যায়, মসজিদের ভেতর ও বারান্দায় জায়গা পেতে মুসল্লিরা আগেভাগেই সারিবদ্ধ হয়ে বসছেন। অনেকের হাতে ছিল জায়নামাজ, তসবিহ ও কোরআন শরিফ। কেউ কেউ নামাজের আগে আতর ব্যবহার করছেন, আবার পরিচিতদের মাঝেও আতর বিতরণ করতে দেখা গেছে। মসজিদের প্রবেশপথে বসেছে অস্থায়ী টুপি ও আতরের দোকান, যেখানে ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।
মগবাজার থেকে নামাজ আদায় করতে আসা আলাউদ্দিন নামে এক যুবক বলেন, “এই প্রথম জাতীয় মসজিদে তারাবি পড়ার সুযোগ হলো। আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা জানাই। এখানে নামাজ আদায় করতে পেরে এক অন্যরকম প্রশান্তি অনুভব করছি।” তার মতো অনেক মুসল্লিই জানান, রমজান মাস আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর পথে ফিরে আসার অনন্য সুযোগ।
শুধু বায়তুল মোকাররমই নয়, রাজধানীর অন্যান্য মসজিদেও তারাবি নামাজে ছিল ব্যাপক উপস্থিতি। অনেক জায়গায় ভেতরে জায়গা না পেয়ে মুসল্লিরা মসজিদের বাইরে চট ও পাটি বিছিয়ে তারাবি আদায় করেন। এতে পুরো শহরজুড়ে রমজানের প্রথম রাতেই ধর্মীয় উৎসবের আবহ তৈরি হয়।
এর আগে সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজের পর ইসলামিক ফাউন্ডেশন-এর সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ ঘোষণা দেন, বাংলাদেশের আকাশে পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেছে এবং বৃহস্পতিবার থেকে রোজা শুরু হবে।
তিনি আরও জানান, রমজানের হিসাব অনুযায়ী আগামী ১৬ মার্চ দিবাগত রাতে পবিত্র লাইলাতুল কদর পালিত হবে। দেশবাসীর উদ্দেশে দোয়া করে তিনি বলেন, মহান আল্লাহ যেন সবার নেক আমল কবুল করেন এবং রমজানকে কল্যাণময় করে তোলেন।