তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের (আইসিটি) সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী বলেছেন, ভোট চলাকালীন সময়ে ভুয়া তথ্য ও ক্ষতিকর অনলাইন কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে সরকারের অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি জানান, মিসইনফরমেশন চিহ্নিত করা এবং তা অপসারণে একাধিক সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে দেশের বৃহত্তম তথ্যপ্রযুক্তি প্রদর্শনী ‘ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো ২০২৬’-এর সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান। শীষ হায়দার চৌধুরী বলেন, “ভুয়া তথ্য দ্রুত শনাক্ত ও যাচাই করার জন্য ১৫ সদস্যের একটি টিম নিয়মিত মনিটরিং করছে। এছাড়া ২১ জন প্রকৌশলী ২৪ ঘণ্টা দায়িত্বে রয়েছেন।”
তিনি আরও জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো সন্দেহজনক পোস্ট বা কনটেন্ট পাওয়া গেলে তা প্রথমে বিশ্লেষণ ও ফ্যাক্টচেক করা হয়। এরপর জাতীয় সাইবার সিকিউরিটি (এনসিএস) কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়। এনসিএস প্রাপ্ত রিপোর্ট বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-কে প্রদান করে। বিটিআরসি সংশ্লিষ্ট সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মকে বিষয়টি যাচাই করার জন্য জানায়, যাতে তা কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী হ্যান্ডেল করা হয়।
সচিব জানান, ইউটিউব, টিকটক ও ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মে ক্ষতিকর কনটেন্ট অপসারণে ইতিমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। গত এক মাসে রিপোর্টকৃত কনটেন্টের প্রায় ২৯ শতাংশ টেকডাউন করা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া ডিজিএফআই, এনএসআই ও স্পেশাল ব্র্যাঞ্চের ডেডিকেটেড টিমও ২৪ ঘণ্টা কাজ করছে।
শীষ হায়দার চৌধুরী বলেন, “নির্বাচনকালীন ও পরবর্তী সময়েও এই কার্যক্রম চলবে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, মিসইনফরমেশন, হেট স্পিচ ও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনামূলক কনটেন্ট যাতে সমাজে নেতিবাচক প্রভাব না ফেলে।”
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হাই-টেক পার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, আইসিটি বিভাগের যুগ্ম সচিব এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির নেতারা। এর পাশাপাশি জানানো হয়, আগামী ২৮ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে চার দিনব্যাপী এক্সপো শুরু হবে।