ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী শরীফ মো. ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় তদন্তে নতুন অগ্রগতি মিলেছে। সীমান্ত দিয়ে মানুষ পারাপারের সঙ্গে জড়িত চক্রের সদস্য ফিলিপের দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ওসমান হাদির ওপর সন্ত্রাসী হামলার পর সীমান্ত এলাকায় বিজিবিকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। সেই সতর্ক নজরদারির অংশ হিসেবেই শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী সীমান্ত এলাকা থেকে মানবপাচারে সহায়তাকারী ফিলিপের দুই সহযোগীকে আটক করা হয়।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, আটক ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে মানুষ পারাপারে সহায়তা করে আসছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা সীমান্তকেন্দ্রিক একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার তথ্য দিয়েছে। ওসমান হাদির ওপর হামলার পর অপরাধীদের সম্ভাব্য দেশত্যাগ ঠেকাতে সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়, যার ফলেই এই গ্রেপ্তার সম্ভব হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) জুমার নামাজের পর রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা দুই আততায়ী ওসমান হাদির ওপর হামলা চালায়। চলন্ত একটি রিকশায় থাকা অবস্থায় তার মাথায় গুলি করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

চিকিৎসকদের মতে, ওসমান হাদির অবস্থা দীর্ঘ সময় ধরেই সংকটাপন্ন ছিল। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সোমবার দুপুরে তাকে একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়।

এদিকে হামলার ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে উঠে এসেছে ‘ফয়সাল করিম’ নামের এক ব্যক্তি। বিভিন্ন সূত্র জানায়, তিনি কিছুদিন ধরে ওসমান হাদির নির্বাচনী প্রচারে যুক্ত ছিলেন। পুলিশও তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করে নাগরিকদের কাছে তথ্য চেয়েছে। জানা গেছে, ফয়সাল করিম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মোহাম্মদপুর এলাকার একজন নেতা ছিলেন।

হাদির ওপর হামলার পেছনে কারা জড়িত এবং এর নেপথ্য উদ্দেশ্য কী—তা উদঘাটনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।