রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের একাধিক অঞ্চলে শুক্রবার সকালেই অনুভূত হয়েছে বিরল মাত্রার ভূমিকম্প, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে অন্যতম শক্তিশালী বলে মনে করছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। আচমকা শুরু হওয়া তীব্র কাঁপনে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই পুরো শহরে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক।
ভূমিকম্প শুরুর সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বহু মানুষ ঘর-বাড়ি ও অফিস ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন। ভবনের ভেতর দোদুল্যমান অনুভূত হলে বাসিন্দারা নিরাপত্তার খোঁজে দ্রুত নিচে নেমে আসতে বাধ্য হন। যদিও তাৎক্ষণিকভাবে কম্পনের কেন্দ্রবিন্দু বা রিখটার স্কেলে মাত্রা জানা যায়নি, তবুও এর তীব্রতা ছিল স্পষ্টতই বেশি এমনটাই বলছেন ভূকম্পবিদরা।
মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা শায়লা পারভীন ভয়াবহ সেই মুহূর্তের বর্ণনা দিয়ে বলেন, আমি তখন রান্নাঘরে। হঠাৎ মনে হলো পুরো মেঝে নড়ছে। শুরুতে বুঝতে পারিনি, কিন্তু কয়েকটি জিনিসপত্র পড়ে যেতে দেখেই দ্রুত নিচে দৌড়াই। জীবনে এতো তীব্র কাঁপন আর কখনও অনুভব করিনি।
গুলশানের একটি বহুতল ভবনে দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তাকর্মী রফিক মিয়ার ভাষায়, বিল্ডিংটা এমনভাবে দুলছিল যে মনে হচ্ছিল এখনও থামবে না। ভয়ে সবাই একসঙ্গে নিচে নেমে আসছিল, কেউই থামতে চাইছিল না।
ভূমিকম্পের সময় অফিসপাড়া, বাণিজ্যিক কেন্দ্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে কিছুক্ষণের জন্য বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। অনেক প্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে কার্যক্রম স্থগিত রাখে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূমিকম্পের সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আতঙ্কে ছুটোছুটি না করা কিন্তু আচমকা কাঁপনে সাধারণ মানুষের সেই সচেতনতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
পরবর্তী আপডেটে কম্পনের সুনির্দিষ্ট মাত্রা ও কেন্দ্রস্থল সম্পর্কে তথ্য দেবে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো। তবে এ ঘটনায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং ভবনগুলোর ক্ষয়ক্ষতি যাচাই শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।