রাজধানীর মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজারে কিশোর গ্যাং চাঁন-মানিক গ্রুপের প্রধান চাঁন মিয়া ওরফে রাতুল (২২) ও তার চার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে হত্যাসহ ছিনতাই এবং মাদক সম্পর্কিত মোট ২২টি মামলা রয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) রায়েরবাজারের পাবনা হাউজ গলিতে অভিযান চালিয়ে চাঁন মিয়া ও তার সহযোগীদের আটক করা হয়। এই সময় তাদের কাছ থেকে ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত চাপাতি ও ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার অন্যরা হলো— লিমন, মো. রমিজ, মো. খাইরুল ইসলাম ও মো. বাবু। তারা সক্রিয় গ্যাং সদস্য এবং পেশাদার ছিনতাইকারী হিসেবে পরিচিত।
মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “রায়েরবাজার ও বুদ্ধিজীবী কবরস্থান এলাকাসহ আশেপাশের এলাকায় চাঁন-মানিক গ্রুপ দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্ক সৃষ্টি করছিল। এর আগে এই গ্যাংয়ের আরেক প্রধান মানিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। চাঁনের বিরুদ্ধেও হত্যা, ছিনতাই ও অন্যান্য অপরাধে অন্তত ১৫ থেকে ২০টি মামলা রয়েছে।”
এসি আরও জানিয়েছেন, “গ্যাংটিতে ২০–২৫ জন উঠতি বয়সী সদস্য সক্রিয়। তারা রাতের অন্ধকারে অলিগলিতে ওত পেতে থাকে এবং সুযোগ পেলেই নিরীহ পথচারীদের ওপর হামলা করে মোবাইল ও অর্থ ছিনিয়ে নেয়। তাদের কর্মকাণ্ডের কারণে স্থানীয়রা দীর্ঘদিন ভীতির মধ্যে বসবাস করছিল।”
রায়েরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নাজমুল আলম শেখ বলেন, “এই গ্যাংয়ের কার্যক্রম বন্ধ করা দীর্ঘদিনের চ্যালেঞ্জ ছিল। অবশেষে চাঁনসহ পাঁচজনকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে, যা সুষ্ঠু বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়া হবে।”
পুলিশ আশা করছে, এই অভিযান এলাকার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং গ্যাং ভিত্তিক অপরাধের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।