'ব্ল্যাক ফ্রাইডে' উপলক্ষে বৈশ্বিক সরবরাহচক্রের শ্রমিকদের বঞ্চনার চিত্র তুলে ধরেছে সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন (এসজিএসএফ)। সংগঠনটি এক সমাবেশ থেকে নিরাপদ কর্মপরিবেশ, ন্যায্য মজুরি এবং শ্রমিক অধিকার নিশ্চিত করার জন্য জোর দাবি জানিয়েছে।
শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এই সমাবেশে শ্রমিক নেতারা দৃঢ়ভাবে বলেন, শ্রমিকদের ন্যায়সংগত অধিকার নিশ্চিত না করতে পারলে বৈশ্বিক ব্যবসা কখনোই মানবিক হতে পারে না এবং তা টিকে থাকতে পারে না।
এসজিএসএফ’র সভাপতি নাজমা আক্তার সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন। তিনি বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠান অ্যামাজনের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, "অ্যামাজন বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠান হলেও তাদের উৎপাদন ও সরবরাহচক্রে যুক্ত শ্রমিকরা এখনও ন্যায্য মজুরি, সংগঠনের অধিকার এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ থেকে বঞ্চিত।" তিনি যোগ করেন, "বাংলাদেশের পোশাক শ্রমিকরাও দীর্ঘদিন ধরে একই অবিচারের শিকার।"
নাজমা আক্তার আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, অ্যামাজনের গুদামঘর থেকে পরিবহন পর্যন্ত শ্রমিকদের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কঠোর নজরদারির মধ্যে কাজ করতে বাধ্য করার চিত্র নিয়মিত প্রকাশিত হয়। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, বিপুল মুনাফা অর্জন করা সত্ত্বেও কর্পোরেশনটি এখনও শ্রমিক নিরাপত্তাবিষয়ক কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তিতে সই করেনি। ফলে উৎপাদনকারী দেশগুলোর কারখানায় শ্রমিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কোনো আনুষ্ঠানিক বাধ্যবাধকতাও তাদের নেই।
সমাবেশে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ শ্রমিকের মৌলিক অধিকারগুলো তুলে ধরে বলেন, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও পর্যাপ্ত সুরক্ষা। হয়রানিমুক্ত পরিবেশ। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সংগঠন গঠনের অধিকার। সময়মতো ও ন্যায্য মজুরি।
নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি দেন যে, বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় এসব অধিকার উপেক্ষিত হলে তা আন্তর্জাতিক ব্যবসার জন্য দীর্ঘমেয়াদে হুমকিস্বরূপ। শ্রমিক প্রতিনিধিরা জানান, বিশ্বব্যাপী শ্রমিকরা এখন এক হচ্ছে এবং তারা তাদের অধিকারের বিষয়ে আর নীরব থাকবে না। এসজিএসএফ’র সাধারণ সম্পাদক খাদিজা আক্তার সহ অন্যান্য ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দও বক্তব্য দেন। বক্তারা এই আন্দোলনকে শুধু মজুরির জন্য নয়, বরং ন্যায়, সম্মান, নিরাপত্তা ও জবাবদিহিতার জন্য একটি বৈশ্বিক মানবিক দাবির প্রতিফলন বলে উল্লেখ করেন।
শ্রমিক নেতারা এই বৈশ্বিক আন্দোলনের গুরুত্ব জনগণের সামনে তুলে ধরতে গণমাধ্যমকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। সমাবেশ শেষে সংগঠনের সহ–সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সৈকত চৌধুরী অংশগ্রহণকারীদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
ইএফ/