প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের ভোটে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ার মধ্য দিয়ে বিএনপির সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দেওয়া অঙ্গীকারগুলো বাস্তবায়ন করা। দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর পর দেশে ফিরে তিনি যে পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ রূপরেখার কথা জনগণের সামনে তুলে ধরেছিলেন, তা কার্যকর করার সুযোগ এবার জনগণই দিয়েছে।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরে তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন—“আই হ্যাভ এ প্ল্যান”। এরপর ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের আগে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে সেই পরিকল্পনার নানা দিক জনগণের সামনে তুলে ধরা হয়েছে। জনগণ স্বাধীনতার ঘোষকের প্রতিষ্ঠিত দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-কে ভোট দিয়ে সরকার গঠনের দায়িত্ব দিয়েছে, যা একই সঙ্গে একটি বড় আস্থা ও দায়িত্বের প্রতিফলন।
তিনি বলেন, জনগণ শুধু ভোটই দেয়নি, বরং বিএনপিকে সব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ করে দিয়েছে। এখন এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে প্রতিটি প্রতিশ্রুতি পূরণ করাই সরকারের মূল দায়িত্ব। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ইতোমধ্যে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে এবং এই যাত্রাপথে ভবিষ্যতেও জনগণের অব্যাহত সমর্থন প্রত্যাশা করেন।
তারেক রহমান আরও বলেন, সরকারপ্রধান হিসেবে তিনি স্পষ্ট করে জানাতে চান—নবগঠিত এই সরকারের কাছে সব নাগরিকের অধিকার সমান। যারা বিএনপিকে ভোট দিয়েছেন, যারা দেননি কিংবা যারা ভোটই দেননি—রাষ্ট্রের চোখে সবাই সমান মর্যাদার অধিকারী। বিএনপি সরকার বিশ্বাস করে, দল-মত ও আদর্শ ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্র সবার।
ভাষণে তিনি জাতীয় ঐক্য ও সহনশীলতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, একজন বাংলাদেশি হিসেবে প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা, সুস্থতা ও অধিকার নিশ্চিত করাই সরকারের দায়িত্ব। তিনি আল্লাহর কাছে দোয়া কামনা করে বলেন, দেশবাসী যেন নিরাপদ ও সুস্থ থাকে এবং সরকারের সব ইতিবাচক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের তৌফিক পাওয়া যায়।
প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উঠে আসে—নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়ন, সমান নাগরিক অধিকার এবং জনগণের আস্থার প্রতিদান দেওয়াই হবে বিএনপি সরকারের মূল লক্ষ্য।