বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (বাংলাদেশ ন্যাপ)-এর নেতারা মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পালনের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন। শনিবার (১৫ নভেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে দলের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া এই দাবি জানান।

ইতিহাসের কাঠগড়ায় অবহেলাকারীরা: নেতৃদ্বয় বলেন, "মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী আর স্বাধীন বাংলাদেশ অবিচ্ছেদ্য।" তাঁরা ভাসানীকে স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তাঁকে রাষ্ট্রীয়ভাবে অবহেলা করা হলে ইতিহাস তা কখনোই ক্ষমা করবে না এবং এই অবহেলাকারীদের একদিন ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাঁড়াতেই হবে।

স্বাধীনতার বীজ বপনকারী: বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও স্বায়ত্তশাসনের আন্দোলনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, মওলানা ভাসানীই প্রথম তাঁর বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে স্বায়ত্তশাসন, এমনকি স্বাধীনতার ইস্যুকে সামনে নিয়ে এসেছিলেন।

তাঁরা ভাসানীকে আজীবন আপসহীন, সাম্রাজ্যবাদ-আধিপত্যবাদ-বিরোধী সংগ্রাম আর জাতীয়তাবাদী ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মহান সাধক হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁরা বলেন, ভাসানীর জীবন আলোচনা দেশের অসমাপ্ত জাতীয় মুক্তি, গণমুক্তি সংগ্রাম এবং আধিপত্যবাদ-বিরোধী লড়াইকে শাণিত ও শক্তিশালী করতে পারে।

শোষণমুক্ত সমাজের স্বপ্ন: ন্যাপ চেয়ারম্যান-মহাসচিব মন্তব্য করেন, মওলানা ভাসানী প্রগতিশীল ও শোষণমুক্ত সমাজ ধারার সঙ্গে ধর্মের সুমহান আদর্শের রাখিবন্ধন করেছেন। শোষণহীন, অসাম্প্রদায়িক, সাম্য আর পালনবাদী সমাজব্যবস্থার জন্য তিনি নিজের জীবনের সর্বস্ব ত্যাগ করেছেন। তাঁরা সতর্ক করে দেন, আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে মজলুম জননেতার দেখানো পথ থেকে বিচ্যুত হলে জাতি হিসেবে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

ইএফ/