রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে গত মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) সন্ধ্যায় লাগা এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রায় দেড় হাজার কাঁচা ঘরবাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এই ঘটনায় নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া শত শত মানুষ তাদের সর্বস্ব হারিয়েছেন, বিপুল পরিমাণ আসবাবপত্রসহ সবকিছুই ভস্মীভূত হয়েছে। রাতভর খোলা আকাশের নিচে কাটিয়েছেন ঘরহারা মানুষগুলো।

আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের মোট ১৯টি ইউনিট প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে চেষ্টা চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পৌঁছানোর আগেই যানজট এবং সরু রাস্তার কারণে আগুন ‘ডেভলপমেন্ট স্টেজে’ চলে যায়, যা নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত সময় নেয়। ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন ও মেন্টেনেন্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী গণমাধ্যমকে অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহতা ও ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরেন। তিনি নিশ্চিত করেন, ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, যদিও ছোটখাটো আহত হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ তদন্তের পর জানা যাবে উল্লেখ করে ফায়ার পরিচালক আগুনের উৎস নিয়ে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ দেন। তিনি বস্তির মধ্যে যত্রতত্র বিদ্যুতের তারের উপস্থিতি এবং প্রত্যেক বাসায় গ্যাস সিলিন্ডারের ব্যবহারকে আগুনের ঝুঁকির প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন।

উল্লেখ্য, প্রতি বছরই কড়াইল বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এই প্রসঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক জানান, দুর্বল পয়েন্টগুলো চিহ্নিত করে নিয়মিত মহড়া চালানো হয়। কিছুদিন আগে এমন একটি মহড়া শেষ হওয়ায় এবার দ্রুততম সময়ের মধ্যে আগুন নেভানো সম্ভব হয়েছে। তিনি আসন্ন শীত মৌসুমে (যা আগুনের সিজন হিসেবে পরিচিত) নগরবাসীকে বিশেষভাবে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড আবারও রাজধানীর ঘনবসতিপূর্ণ বস্তিগুলোর নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে। নিঃস্ব হয়ে যাওয়া এসব মানুষের পাশে দাঁড়াতে দ্রুত সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের প্রয়োজন।

ইএফ/