বুধবার বিকেলে রাজধানীতে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। সভাটির মূল প্রতিপাদ্য ছিল—জাতীয় নির্বাচনে নারীর কার্যকর ও অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়; এটি একটি দেশের সামাজিক কাঠামো, রাজনীতির চরিত্র এবং ক্ষমতার বণ্টনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বাস্তবতা হলো, এখনো প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে যোগ্যতা নয়, বরং পারিবারিক প্রভাব ও ক্ষমতার ধারাবাহিকতাই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। এতে রাজনীতি নারীবান্ধব না হয়ে আরও সংকুচিত হয়ে পড়ছে।
তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, নারীর এজেন্ডাকে আলাদা ও সুস্পষ্টভাবে গ্রহণ করতে হবে। প্রতিহিংসা, ধর্মান্ধতা ও ক্ষমতার অপব্যবহার দূর না হলে জনগণের দল গড়ে তোলা সম্ভব নয়। জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠার আগে সমাজে জেন্ডার সাম্য নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
সভায় সংরক্ষিত নারী আসন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নারীরা যেন সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হতে পারেন—সে ব্যবস্থার দিকে যেতে হবে। তবে এটি একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার জন্য কার্যকর রাখা যেতে পারে, যাতে ভবিষ্যতে নারীর স্বাভাবিক ও টেকসই রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়।
মতবিনিময় সভায় সংগঠনের পক্ষ থেকে উপস্থাপিত ধারণাপত্রে বলা হয়, সংবিধানে নারীর সমঅধিকার নিশ্চিতের অঙ্গীকার থাকলেও জাতীয় সংসদে মনোনয়নভিত্তিক সংরক্ষিত আসনের কারণে নারীর প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হচ্ছে না। সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্তরে নারী এখনও প্রান্তিক।
আলোচকরা একমত হন যে, সংসদে অন্তত এক-তৃতীয়াংশ নারী প্রতিনিধিত্ব সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র, দলীয় অর্থায়ন, নারী প্রার্থীদের নিরাপত্তা এবং সাইবার হয়রানি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়।
সভা থেকে উঠে আসে একটি স্পষ্ট বার্তা—নারীকে কেবল আসন নয়, ক্ষমতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ দিতে না পারলে গণতন্ত্র পূর্ণতা পাবে না।