বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে দেশের বন্দর পরিচালনা নিয়ে করা রাষ্ট্রীয় চুক্তির প্রতিবাদে বাম দল ও সহযোগী সংগঠনগুলোর ‘যমুনা ঘেরাও’ কর্মসূচিতে পুলিশের লাঠিচার্জে কমপক্ষে ১২ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে সংঘর্ষের পর তাদের সবাইকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করানো হয়। পরে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চিকিৎসকরা তাদের ছেড়ে দেন।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন—সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কাজী রুহুল আমিন (৪৫), বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি জহুর লাল রায় (৩৫), বর্তমান সদস্য অন্ত অবিন্দম (২৫), খিলগাঁও থানা ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ আহমেদ রাফিন (২৫), সদস্য রাসেল আহমেদ (২৪) ও সোয়াইব আহমেদ আসিফ (২৪)। এছাড়া বাসদ ও মার্কসবাদী নির্বাহী ফোরামের সদস্য সীমা দত্ত (৫২), সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ঢাকা মহানগরের সহ-সভাপতি শাহিনুর আক্তার সুমি (২৮), গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ফাহিম আহমেদ চৌধুরী (৩০), কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক স্বাকাই ইসলাম (২৫), ঢাকা মহানগর কমিটির সদস্য রাকিব আহমেদ এবং ঢাকা মহানগর ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক প্রিজম ফকির।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সিপিবি নেতা ইকবাল হোসেন জানান, বন্দর চুক্তির প্রতিবাদে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ঘেরাও করার কর্মসূচি নিয়ে সংগঠনের নেতাকর্মীরা যমুনার দিকে এগোচ্ছিলেন। কাকরাইল মোড় এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ তাদের পথ অবরোধ করে এবং এক পর্যায়ে লাঠিচার্জ শুরু করে। এতে অন্তত ১২ জন আহত হন। পরে সংগঠনের সদস্যরা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত ঢামেকে নিয়ে যান।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক বলেন, কাকরাইল মোড় থেকে আহত অবস্থায় ১২ জনকে জরুরি বিভাগে আনা হয়। চিকিৎসকরা তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেন এবং অবস্থা স্থিতিশীল হওয়ায় ছাড়পত্র দেওয়া হয়।
বাম সংগঠনগুলোর নেতাদের অভিযোগ, জনস্বার্থ বিরোধী চুক্তির বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিকে বাধাগ্রস্ত করতেই পুলিশ অতিরিক্ত বল প্রয়োগ করেছে। তবে পুলিশ এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেয়নি।