ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে বিক্ষোভ সমাবেশ শুরু হয়েছে।

আজ শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে বায়তুল মোকাররম প্রাঙ্গণে ‘শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে দ্রুত বিচার, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও লীগ সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে’ শীর্ষক ব্যানারে এই কর্মসূচি পালন করে বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিস।

বিক্ষোভের শুরুতেই সংগঠনটির নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। স্লোগানের মধ্যে ছিল— ‘আমি কে তুমি কে, হাদি হাদি’, ‘আমার সোনার বাংলায় খুনি লীগের ঠাঁই নাই’, ‘ফ্যাসিবাদের ঠিকানা এই বাংলায় হবে না’, এবং ‘আমরা সবাই হাদি হবো, যুগে যুগে লড়ে যাবো’।

একই সময়ে খেলাফত মজলিসের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখাও হাদি হত্যার প্রতিবাদে ও বিচার দাবিতে জুমার নামাজ শেষে বায়তুল মোকাররমে পৃথক বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করে।

উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে নির্বাচনী প্রচারণা শেষে ফেরার পথে সন্ত্রাসীদের গুলিতে গুরুতর আহত হন ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং রাজনৈতিক আন্দোলন ‘ইনকিলাব মঞ্চ’-এর মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১৫ ডিসেম্বর তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে (এসজিএইচ) নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল তিনি মারা যান।

হাদির মৃত্যুর খবর দেশে পৌঁছানোর পরপরই রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ শুরু হয়। ওই কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় আজ জুমার নামাজ শেষে সব মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেওয়া হয়।

এদিকে, ওসমান হাদির মরদেহ আজ সন্ধ্যায় সিঙ্গাপুর থেকে দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ বিমানের একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইটে শুক্রবার সিঙ্গাপুরের স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে মরদেহ ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হবে। ফ্লাইটটি সন্ধ্যা ৬টা ৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের কথা রয়েছে।