শীতের আমেজ শুরু হতে না হতেই রাজধানী ঢাকার বাজারগুলো এখন মৌসুমি সবজির প্রাচুর্যে ভরে উঠেছে। অনুকূল আবহাওয়া এবং সরবরাহ বৃদ্ধির কারণে বাজারে নানা রঙের শীতকালীন সবজির সমারোহ সবার নজর কেড়েছে। সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হলো, দাম এখন ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে, যা সাধারণ মানুষের মনে স্বস্তি এনে দিয়েছে।
শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) রাজধানীর মোহাম্মদপুর, ঝিগাতলা, কারওয়ান বাজার ও শ্যামবাজারসহ প্রধান প্রধান কাঁচাবাজারগুলো ঘুরে দেখা গেছে, ডালা ভরে আছে নতুন মূলা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, পুঁইশাক, লাউ, চাল কুমড়া, পালংশাক, মিষ্টিকুমড়াসহ শীতকালীন সবজিতে। বিক্রেতারা বলছেন, উত্তরাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যাপকহারে সবজি আসায় চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক বেশি। এই প্রাচুর্যের কারণেই দাম নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অধিকাংশ সবজি গত সপ্তাহের চেয়ে প্রতি কেজিতে ৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত কম দামে বিক্রি হচ্ছে।
মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারে আসা ক্রেতা মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, “গত সপ্তাহে শীতকালীন সবজি তেমন একটা ছিল না। আজকে বাজারে সয়লাব। অনেকদিন পর এমন স্বস্তি পেলাম। দাম কম, সবজি টাটকা— একেবারে শীতের আমেজ পাওয়া যাচ্ছে।” তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, সারা বছর এমন দামে সবজি পাওয়া গেলে পরিবারের পুষ্টির চাহিদা মিটিয়ে মাস শেষে কিছু টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব হতো।
ঝিগাতলা কাঁচাবাজারের ক্রেতা ঝিনুক ইসনিয়াও একই কথা বলেন। তিনি বলেন, “শীতের নানান জাতের সবজি দেখে মনে হচ্ছে শীতের একটা ঘ্রাণ পাচ্ছি। দামেও কম পাওয়া যাচ্ছে সবজিগুলো। স্বল্প দাম আমাদের শরীরের ভিটামিনের ঘাটতি পূরণে সহায়তা করবে। আমরা চাই সারাবছর সবজিগুলোর এমন কম দাম থাকুক।”
টাউন হল কাঁচা বাজারের ব্যবসায়ী রহমত মিয়া বলেন, “শীতের শুরুতেই দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যাপক সবজি ঢুকছে। সরবরাহ বেশি হওয়ায় দামও তুলনামূলক কম। গত সপ্তাহের তুলনায় অধিকাংশ সবজির দাম কেজিতে কমেছে।” তিনি আশা করেন, বাজারে সবসময় পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলে বিক্রেতারাও কম দামে বিক্রি করতে পারবে এবং ক্রেতাদের মুখে হাসি থাকবে।
ক্রেতারা সামগ্রিকভাবে বলছেন, সব সময় বাজারে যে দামের চাপ থাকে, এই কয়েক দিন ধরে মনে হচ্ছে বাজারটি একটু ‘মানুষবান্ধব’ হয়েছে। সবজি ব্যবসায়ীরাও আশা করছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সামনে আরও সবজি আসবে, এতে দাম আরও স্থিতিশীল হবে এবং ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েরই স্বস্তি বাড়বে।
ইএফ/