প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস ১৬ ডিসেম্বরের মহান বিজয় দিবসকে জাতীয় জীবনে নতুনভাবে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার দিনে পরিণত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে জনগণের প্রকৃত ক্ষমতায়নের জন্য এগিয়ে যাওয়া এবং গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে নবযাত্রা রক্ষার শপথ নেওয়ার দিন হোক এই বিজয় দিবস।

এক বাণীতে তিনি বলেন, “১৬ ডিসেম্বর আমাদের ইতিহাসে এক গৌরবময় দিন। ১৯৭১ সালের রক্তক্ষয়ী ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধের পর আমরা পেয়েছিলাম কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা, লাখো শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত একটি জাতিসত্তা, আর হাতে লাল-সবুজের পতাকা। এই দিনটি আমাদের জন্য স্মরণযোগ্য এবং দেশপ্রেমের প্রতীক।”

প্রফেসর ইউনূস দেশের ভেতরে ও বিদেশে থাকা সব বাংলাদেশিকে বিজয়ের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধসহ স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গ করা শহীদদের গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং বলেন, “তাদের আত্মদান আমাদের অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর প্রেরণা জোগায়, সংকট ও সংগ্রামে মুক্তির পথ দেখায়।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, স্বাধীনতার সূর্য উজ্জ্বল হলেও বিগত বছরগুলোতে তা স্বৈরাচার ও দুর্নীতির ছায়ায় ম্লান হয়েছে। তবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আমরা নতুনভাবে বৈষম্যহীন, দুর্নীতি মুক্ত ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার সুযোগ পেয়েছি। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশের জন্য বিস্তৃত সংস্কার কর্মসূচি হাতে নিয়েছে এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণে সেগুলো সফলভাবে বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে।

প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “এই কর্মযজ্ঞের মাধ্যমে আগামীর বাংলাদেশে স্বৈরতান্ত্রিকতা নিপাতিত হবে, জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে, আর দেশ হবে জনমুখী ও টেকসই উন্নয়নের প্রতীক।”

তিনি সকল বাংলাদেশিকে আহ্বান জানান, “আমাদের বহু কষ্টে অর্জিত স্বাধীনতাকে পূর্ণতা দিতে নতুন প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলি। ধর্ম, বর্ণ বা গোষ্ঠী নির্বিশেষে হাতে হাত রেখে এগিয়ে যাই শান্তি ও সমৃদ্ধির পথে।”