চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, নারী ও কন্যাশিশুর ওপর সহিংসতা রোধের মূল চাবিকাঠি হলো সমাজে নৈতিকতা ও চরিত্রের চর্চা। তিনি বলেন, “নির্যাতন চালানো ব্যক্তিরাও আমাদের সমাজের অংশ, কোনো না কোনো পরিবারের সদস্য। তাই শুধু আইন প্রয়োগ বা সভা-সেমিনারে ভালো কথা বললেই সমস্যার সমাধান হবে না; প্রত্যেককে নিজের জীবনে নৈতিকতা চর্চা করতে হবে।”

মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষের উপলক্ষে চট্টগ্রামে আয়োজিত র‌্যালি ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উদ্যোগে সার্কিট হাউস প্রাঙ্গণে র‌্যালির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পরে সার্কিট হাউস সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ বছরের প্রতিপাদ্য ছিল, “নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতা বন্ধে ঐক্যবদ্ধ হই, ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করি।”

সভায় সরকারি কর্মকর্তা, বেসরকারি সংস্থা ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। ব্র্যাক, ইপসা, প্রত্যাশী, ইলমা, কারিতাস, সিডিসি, উষা নারী উন্নয়ন সংস্থা, ওয়াইএএসডি, যুগান্তর, ঘাসফুল, বিটা প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধি অনলাইনে নারীর নিরাপত্তা, যৌন হয়রানি প্রতিরোধ, প্রতিবন্ধী নারী ও প্রবাসী পরিবারের সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং পারিবারিক সহিংসতা রোধে গুরুত্বারোপ করেন।

সভায় উপস্থিত বক্তারা জানান, শুধুমাত্র আইন প্রয়োগে সহিংসতা বন্ধ হবে না। পরিবারভিত্তিক শিক্ষা, সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ঝুঁকিপূর্ণ নারী ও শিশুদের তথ্যভিত্তিক সমন্বিত কার্যক্রম অপরিহার্য। জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক নারীর স্বাবলম্বিতা অর্জনে কারিগরি শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের ওপর জোর দেন।

ডিসি জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, “যেমনভাবে তিন হাজারের বেশি মাদক মামলার আসামি শাস্তি পেলেও সমাজ থেকে মাদক কমছে না, তেমনি সহিংসতাও কেবল আইন প্রয়োগে কমবে না। প্রত্যেকে যদি নৈতিকতা চর্চা করে ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিক পথ দেখায়, তবে সমাজে সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।” তিনি সবাইকে নিরাপদ পরিবার, নিরাপদ সমাজ ও নিরাপদ রাষ্ট্র গঠনে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

সভাপতি আরও বলেন, গণপরিবহনে নারীর প্রতি সহিংসতা হলে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জরুরি। পরিবারে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নারীর ওপর চাপিয়ে না দেওয়ার বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে এবং নারীর শিক্ষা ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করতে হবে।