চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, একটি আধুনিক, স্বচ্ছ ও মানবিক প্রশাসন গড়তে হলে ব্যক্তি নয়, সিস্টেমকেই রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। প্রশাসনিক কাঠামোকে শক্তিশালী করা, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং সেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়াই প্রশাসনিক সংস্কারের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সোমবার (৮ ডিসেম্বর) চন্দনাইশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সম্মেলন কক্ষে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন জেলা প্রশাসক। পটিয়া ও চন্দনাইশ উপজেলা পরিদর্শনের অংশ হিসেবে দিনের ব্যস্ততম সফরের মধ্যেই তিনি মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে গভীর আলোচনায় অংশ নেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, “আমরা এমন একটি প্রশাসনিক কাঠামো চাই, যেখানে নিয়ম-নীতিই হবে মূল চালিকাশক্তি। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থ নয়—রাষ্ট্রের স্বার্থই হবে সর্বাগ্রে। প্রতিটি কর্মকর্তা এই পরিবর্তনের অংশীদার হবেন, আর এই পরিবর্তন হতে হবে ইতিবাচক।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। “মানুষকে দ্রুত, সম্মানজনক ও ঝামেলাহীন সেবা দিতে না পারলে প্রশাসনিক উন্নয়ন অর্থহীন হয়ে যাবে,” বলেন তিনি।
দুর্নীতি, মানবিকতা ও মূল্যবোধ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন, “পরিচয়, পদ বা ক্ষমতা দিয়ে নয়—মানবতা, বিবেক এবং দায়বদ্ধতার মাধ্যমেই একটি উন্নত সমাজ গড়ে ওঠে। মানবিকতা হারিয়ে গেলে সমাজে মূল্যবোধও হারিয়ে যায়।”
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পর্কে তিনি স্পষ্ট করে জানান, নির্বাচন হতে হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ। মাঠপর্যায়ের প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্বোচ্চ সততা, পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার পরিচয় দিতে হবে। “যে কোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে,” সতর্ক করেন তিনি।
সভায় উপজেলা পর্যায়ের উন্নয়ন কাজ, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, শিক্ষা-স্বাস্থ্যখাতের চলমান প্রকল্প এবং সরকারি সেবা গ্রহণে আগত মানুষের প্রতি আন্তরিক আচরণের গুরুত্ব তুলে ধরেন জেলা প্রশাসক।
চন্দনাইশের সভা শেষে তিনি পটিয়া উপজেলা পরিদর্শন করেন এবং সেখানে অনুষ্ঠিত সভাতেও একই ধরনের দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন।