২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশের বিভিন্ন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জোর করে পদত্যাগে বাধ্য করা শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের বেতন-ভাতা চালু এবং নিজ নিজ পদে পুনর্বহালের দাবিতে রাজধানীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার দুপুরে রাজধানীর শিক্ষা ভবনের সামনে ‘পদ-বঞ্চিত প্রতিষ্ঠান প্রধান ও শিক্ষক জোট’-এর ব্যানারে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ভুক্তভোগী শিক্ষকরা অংশ নেন। মানববন্ধনে তারা অভিযোগ করেন, সরকারি নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও মাঠপর্যায়ে তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে তারা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
বক্তারা জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে একাধিকবার প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র জারি করা হয়েছে, যেখানে জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য হওয়া শিক্ষকদের বেতন চালু ও পুনর্বহালের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর এবং ২০২৫ সালের জানুয়ারি, এপ্রিল ও অক্টোবরের পরিপত্রের পাশাপাশি সর্বশেষ ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারির নির্দেশনাও এখনো অনেক প্রতিষ্ঠানে কার্যকর হয়নি।
ভুক্তভোগীদের দাবি, কিছু ভারপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানপ্রধান ইচ্ছাকৃতভাবে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) সিস্টেমে প্রয়োজনীয় তথ্য হালনাগাদ করছেন না। এর ফলে প্রায় ৯০০ শিক্ষক নিয়মিত বেতন পাচ্ছেন না এবং প্রায় সাড়ে চার হাজার শিক্ষক কর্মস্থলে ফিরতে পারছেন না। অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষকদের এমপিও ইনডেক্স পর্যন্ত মুছে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
মানববন্ধন শেষে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালকের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, ৫ আগস্টের পর সারাদেশে অন্তত সাড়ে চার হাজার শিক্ষক নানা ধরনের হয়রানির শিকার হয়েছেন। শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের ফলে ছয়জন শিক্ষক প্রাণ হারিয়েছেন এবং পাঁচ শতাধিক শিক্ষক আহত বা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। পাশাপাশি অনেক শিক্ষক মিথ্যা মামলায় কারাভোগ করছেন বলেও দাবি করা হয়।
জোটের চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম তালুকদার বলেন, সরকারি নির্দেশনা দ্রুত কার্যকর না হলে শিক্ষা ব্যবস্থায় গভীর সংকট তৈরি হবে। মানববন্ধন থেকে বেতন চালু, পুনর্বহাল, ইনডেক্স পুনঃস্থাপন এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতসহ পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়।