দেশের অর্থোপেডিক চিকিৎসা খাতকে উন্নত ও গবেষণার মাধ্যমে সমৃদ্ধ করতে বাংলাদেশ অর্থোপেডিক সোসাইটির (বসকন) ৩৮তম আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলন আগামী ৩০ নভেম্বর শুরু হচ্ছে। দুইদিনব্যাপী এই সম্মেলনে দেশি–বিদেশি প্রায় দুই হাজার চিকিৎসক অংশগ্রহণ করবেন।
শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বসকনের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. আবুল কেনান জানান, সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য হলো চিকিৎসকদের মধ্যে জ্ঞান বিনিময়, অভিজ্ঞতা শেয়ার এবং আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি পরিচিত করা। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সদস্য সচিব ডা. ইরফানুল হক সিদ্দিকী, বসকন–২৫ উদযাপন কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. ওয়াকিল আহমেদ এবং সেক্রেটারি ডা. মিজানুর রহমান।
সম্মেলনে ভারত, জাপান, নেপাল ও পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞ সার্জনরা অংশ নেবেন। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ থেকে ১,০২৫ জন অর্থোপেডিক সার্জন রেজিস্ট্রেশন করেছেন। দুইদিনব্যাপী ৩০টি বৈজ্ঞানিক সেশনে ২০২টি গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হবে। এছাড়া দুটি প্রি–কংগ্রেস ওয়ার্কশপে বিদেশি বিশেষজ্ঞরা হাতেকলমে প্রশিক্ষণ দেবেন।
আয়োজনটি প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেল ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম দিনের সেশন সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় দিন সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক মো. সায়েদুর রহমান। এছাড়া স্বাস্থ্য সচিব, বিএমইউ উপাচার্য, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
সংবাদ সম্মেলনে চিকিৎসকরা দেশের চিকিৎসা সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, সাধারণ রোগ যেমন টাইফয়েডে অনেক রোগী বিদেশে চলে যাচ্ছেন, অথচ বাংলাদেশেই আধুনিক চিকিৎসা সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা জানান, দেশে হাত-পা প্রতিস্থাপনসহ জটিল অস্ত্রোপচার সফলভাবে হচ্ছে, এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে আহতদের গুরুতর অপারেশনও নিটোরে সম্পন্ন হয়েছে।
অধ্যাপক ডা. আবুল কেনান বলেন, “উপজেলা পর্যায়ে অর্থোপেডিক সার্জন থাকলেও পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নেই। প্রান্তিক পর্যায়ের অবকাঠামো দুর্বল হওয়ায় চিকিৎসকদের দক্ষতা পুরোপুরি কাজে লাগছে না।” সদস্য সচিব ডা. ইরফানুল হক বলেন, “দুই হাজার ২০০-এর বেশি অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ থাকলেও নিয়মিত প্রশিক্ষণ অপরিহার্য। সম্মেলন চিকিৎসকদের জন্য অভিজ্ঞতা বিনিময় ও দক্ষতা বৃদ্ধির বড় সুযোগ তৈরি করবে।”