সাম্প্রতিক কয়েক দফা ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় দেশে আতঙ্ক সৃষ্টি হলেও এ অবস্থায় উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে মন্তব্য করেছেন ভূমিকম্পবিষয়ক শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ঝুঁকি মূল্যায়ন করা এবং জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো। সোমবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক জরুরি বৈঠকে এসব মতামত তুলে ধরেন গবেষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকরা।
সভায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমরা হাত গুটিয়ে বসে থাকতে চাই না। এমন কোনো পদক্ষেপও নিতে চাই না যা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত নয়। আপনারা দ্রুততম সময়ে সরকারের করণীয় বিষয়ে লিখিত পরামর্শ দিন। সরকার প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ গ্রহণে প্রস্তুত। তিনি জানান, ভূমিকম্প মোকাবিলায় বিশেষজ্ঞ কমিটি ও একাধিক টাস্কফোর্স গঠনের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। পরামর্শ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক ভূমিকম্পে যেসব প্রাণহানি হয়েছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। যেন এমন পরিস্থিতি আর সৃষ্টি না হয়, সে জন্য আগে থেকেই আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। কী ধরনের মহড়া প্রয়োজন, কোন খাতে সচেতনতা বাড়াতে হবে এসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দরকার।
সভায় উপস্থিত বিশেষজ্ঞরা জানান, ভূমিকম্পকে কেন্দ্র করে বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানো হচ্ছে যেমন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বড় ভূমিকম্প হবে বলে ভুয়া তথ্য প্রচার। তারা বলেন, বাংলাদেশে বড় মাত্রার ভূমিকম্পের ঝুঁকি তুলনামূলক কম হলেও ঝুঁকি শূন্য নয়। তাই কাঠামোগত নিরাপত্তা, জনসচেতনতা, নগর পরিকল্পনা ও জরুরি সাড়াদান সক্ষমতা জোরদার করতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. হুমায়ুন আখতার প্রস্তাব করেন ইনডোর, আউটডোর, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এই চার স্তরে করণীয় পরিকল্পনা তৈরি করে তরুণদের কাজে লাগিয়ে জনগণের মধ্যে সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে হবে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিদ্যুৎ–গ্যাস সুবিধাসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার কাঠামোগত মূল্যায়ন জরুরি।
গণপূর্ত অধিদপ্তর জানায়, একটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে ফাটলধরা ভবনের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং ইতোমধ্যে দুই শতাধিক ভবনের প্রাথমিক মূল্যায়ন সম্পন্ন হয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পার্টিশন দেয়ালে ফাটল পাওয়া গেছে।
বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিশেষজ্ঞদের লিখিত সুপারিশ সংগ্রহ করে দ্রুত একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হবে। এই টাস্কফোর্সে সরকারি-বেসরকারি বিশেষজ্ঞরা যুক্ত হয়ে ভূমিকম্প প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমে সমন্বয় করবে।