গুলিবিদ্ধ ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ওসমান হাদি এখনও জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। মাথায় প্রবেশ করা গুলিতে তার ব্রেনের জটিল ক্ষত তৈরি হয়েছে বলে জানালেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) মো. আবু জাফর।
শুক্রবার রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জরুরি অস্ত্রোপচার শেষে গণমাধ্যমের সামনে হাদির চিকিৎসা পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি জানান—গুলিটি ডান কানের পাশ দিয়ে ঢুকে বাম দিকে বেরিয়ে গেছে, যার ফলে ব্রেনে বড়সড় টিস্যু ক্ষয় হয়েছে।
চিকিৎসা বিজ্ঞানে এ ধরনের ইনজুরি ‘হাই রিস্ক’ হিসেবে বিবেচিত। ডিজি বলেন, “যেখানে গুলি ঢোকে সাধারণত ছোট ক্ষত থাকে, কিন্তু বের হওয়ার জায়গায় ক্ষতি অনেক বেশি হয়। হাদির ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে।”
চিকিৎসকদের আশঙ্কা—হাদির ব্রেন ফুলে গেলে পরিস্থিতি হঠাৎ করেই মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে। চাপ বাড়লে তা প্রাণঘাতী হতে পারে। এই ঝুঁকি মোকাবিলায় অপারেশন থিয়েটারে নিউরোসার্জন ডা. জাহিদ রায়হানের নেতৃত্বে তার খুলির একটি অংশ অপসারণ করা হয়েছে, যাতে ব্রেনের চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
অস্ত্রোপচারের সময় হাদির গ্লাসগো কোমা স্কোর (জিসিএস) ছিল সর্বনিম্ন ৩—যা অত্যন্ত সংকটজনক। জরুরি চিকিৎসার ফলে সামান্য উন্নতি হলেও তিনি এখনও সম্পূর্ণভাবে ভেন্টিলেশনের ওপর নির্ভরশীল। নাক-গলা দিয়ে রক্তক্ষরণ থাকায় সেই অংশও বিশেষজ্ঞরা সামাল দিয়েছেন।
অস্ত্রোপচার শেষে হাদিকে কোন হাসপাতালে নেওয়া হবে, তা নিয়ে কিছুটা মতবিরোধ দেখা দেয়। সরকারের পক্ষ থেকে সিএমএইচে স্থানান্তরের সুপারিশ থাকলেও পরিবারের জোরালো অনুরোধে শেষ পর্যন্ত তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। ডিজি জানান, “পরিবারের সিদ্ধান্তকে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছি।”
ঘটনার পর ঢামেকের সামনে সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত ভিড় করে ছিলেন স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী ও সাধারণ মানুষ। আইসিইউর সামনে সবার মাঝে ছিল একই উৎকণ্ঠা—ওসমান হাদি বাঁচবেন কি না।
চিকিৎসকদের মতে, আগামী কয়েক ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্রেনের চাপ স্থিতিশীল রাখতে পারলেই চিকিৎসা আগাতে পারবে; সামান্য অবনতিও বিপদের কারণ হতে পারে।