বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তনকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় ও ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ।
বৃহস্পতিবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সিআইপি গেটে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, প্রায় ১৭-১৮ বছরের নির্বাসনের পর মাতৃভূমিতে তার ফেরার ঘটনা বাংলাদেশের ৫৫ বছরের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিশেষ স্থান রাখবে। তিনি বলেন, “সারা দেশের কোটি কোটি মানুষ শুধু এক নজর দেখার জন্য এবং তার মুখ থেকে দু’একটি কথা শোনার জন্য অধীর অপেক্ষায় রয়েছে।”
সালাহউদ্দিন আরও উল্লেখ করেন, দীর্ঘ দিন গণতন্ত্র ও ভোটাধিকারের জন্য লড়াই চলার পর জনগণের মধ্যে নতুন করে আশার আলো ফুটেছে। তিনি বলেন, “আমরা ১৬-১৭ বছর ধরে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই চালিয়েছি। ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেই আন্দোলনের ফলাফল এসেছে। ফ্যাসিবাদ পতিত হয়েছে, গণতন্ত্র মুক্ত হয়েছে, এবং আজ আমরা মুক্তির এক আবহে দাঁড়িয়েছি।”
তবে তিনি সতর্ক করেছেন যে, গণতান্ত্রিক উত্তরণ ব্যাহত করতে এখনও বিভিন্ন ষড়যন্ত্র চলছে। সম্প্রতি মগবাজার ফ্লাইওভারে ঘটে যাওয়া বোমা বিস্ফোরণের ঘটনাকে উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদী শক্তি ও তাদের দেশি-বিদেশি দোসররা এখনও সক্রিয়। তারা নির্বাচনের পথ ব্যাহত করার চেষ্টা করতে পারে, কিন্তু তাদের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে।”
সালাহউদ্দিন আশা প্রকাশ করেন, জনগণের সহযোগিতায় আগামী দিনে একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক এবং সুশাসিত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, “সহিংসতা ও অগণতান্ত্রিক উপায়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করতে চাইলে আমরা সম্মিলিতভাবে প্রতিহত করব। জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি মুক্ত ও সুষ্ঠু সমাজ গড়ে তুলব।”
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এই প্রত্যাবর্তনকে কেবল ব্যক্তিগত ঘটনা হিসেবে নয়, বরং গণতান্ত্রিক সংগ্রামের এক মাইলফলক হিসেবেও দেখা হচ্ছে।