উন্নত চিকিৎসার জন্য বিএনপির চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে লন্ডন নেওয়ার পরিকল্পনা আবারও পিছিয়েছে। এর ফলে এটি তৃতীয়বারের মতো স্থগিত হলো। বিমান এবং শারীরিক অবস্থা—দুটি কারণই তার যাত্রা বিলম্বের পেছনে মূল ভূমিকা রাখছে।
বিএনপির একান্ত সচিব এবি এম আব্দুস সাত্তার জানান, “ম্যাডামের লন্ডন যাত্রা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছানোর পরে যেকোনো সময় তাকে নেওয়া যেতে পারে। এখনও নতুন তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।”
একজন চিকিৎসক জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা গত কয়েক দিনে প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। এয়ার অ্যাম্বুলেন্স বিলম্বিত হওয়ায় তার ফ্লাইটের জন্য উপযুক্ততা যাচাই করতে হচ্ছে। এ সময় তার অবস্থার ঝুঁকি বিবেচনা করা হচ্ছে।
সূত্রে জানা গেছে, কাতারের ব্যবস্থাপনায় আনা বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি প্রথমে ৬ ডিসেম্বর ঢাকায় আসার কথা ছিল। পরে সময়সূচি পরিবর্তন করে ৯ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়। ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়ার প্রাথমিক পরিকল্পনা ১০ ডিসেম্বর। তবে সবকিছু নির্ভর করছে খালেদা জিয়ার শারীরিক প্রস্তুতির ওপর।
গত ২৩ নভেম্বর তিনি স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে গিয়েছিলেন এবং একই দিনে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন। ২৭ নভেম্বর শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন হলে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে স্থানান্তরিত করে নিবিড় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দেশের চিকিৎসক টিমের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।
৭৯ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে লিভার সিরোসিস, হৃদরোগ, ফুসফুস, কিডনি ও চোখের জটিলতার পাশাপাশি ডায়াবেটিস ও আর্থ্রাইটিসসহ নানা রোগে ভুগছেন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও নিশ্চিত করেছেন, বিমান ছাড়ার সিদ্ধান্ত মূলত খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করছে।
পরিবার ও দলের পক্ষ থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে যাতে যাত্রা নিরাপদ ও সুবিধাজনক হয়।