বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, গভীর শোক ও কৃতজ্ঞতায় ভাস্বর হয়ে তিনি তার প্রিয় মা, জীবনের প্রথম শিক্ষক এবং তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে তার বাবা, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করেছেন। মায়ের অনুপস্থিতির শূন্যতা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন তারেক রহমান।

পোস্টে তিনি বলেন, এই কঠিন সময়ে দেশের মানুষের অভূতপূর্ব উপস্থিতি তাকে একাকিত্বে ভুগতে দেয়নি। অগণিত নেতাকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী, পরিবার ও দেশবাসীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় তিনি গভীরভাবে আবেগাপ্লুত হয়েছেন।

তারেক রহমান বলেন, “লক্ষ-লক্ষ মানুষ একসাথে এসে যেভাবে সম্মান জানিয়েছে, ভালোবাসা দিয়েছে এবং এই শোকের সময়ে পাশে দাঁড়িয়েছে, তা আমাকে আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে—তিনি শুধু আমার মা ছিলেন না; অনেক দিক থেকে তিনি ছিলেন সমগ্র জাতির মা।”

তিনি আরও জানান, দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের শীর্ষ প্রতিনিধি, বৈশ্বিক কূটনীতিক এবং উন্নয়ন সহযোগীরা সশরীরে উপস্থিত থেকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। পাশাপাশি যেসব দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে সমবেদনা প্রকাশ করেছে, তাদের প্রতিও তিনি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান। তারেক রহমান বলেন, এই সহমর্মিতা তাদের হৃদয় গভীরভাবে স্পর্শ করেছে।

শোকের এই মুহূর্তে তিনি তার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং ভাই আরাফাত রহমান কোকোকে স্মরণ করেন। তার ভাষায়, “আজ এত মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে মনে হচ্ছে, নিকটজন হারানোর শূন্যতা পেরিয়ে পুরো বাংলাদেশই আমার পরিবার হয়ে উঠেছে।”

বেগম খালেদা জিয়ার কর্মজীবনের কথা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, তার মা সারাজীবন নিরলসভাবে মানুষের সেবা করেছেন। আজ সেই দায়িত্ব ও উত্তরাধিকার তিনি গভীরভাবে অনুভব করছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, “একাগ্রতা ও দায়বদ্ধতার সঙ্গে আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি—যেখানে আমার মায়ের পথচলা থেমেছে, সেখানে আমি সেই পথযাত্রাকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবো। সেই মানুষদের জন্য, যাদের ভালোবাসা ও বিশ্বাস তাকে শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত শক্তি ও প্রেরণা জুগিয়েছে।”

পোস্টের শেষাংশে তারেক রহমান বলেন, “আল্লাহ যেন আমার মায়ের রুহকে শান্তি দান করেন। তিনি যে অসীম ভালোবাসা, ত্যাগ ও উদারতার দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন, সেখান থেকেই আমরা শক্তি, ঐক্য ও দেশপ্রেমের প্রেরণা পাই।”