ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ব্যতিক্রমী এক প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনী মাঠে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে তার চিকিৎসা শুরু হবে নিজ এলাকার সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকেই।
রোববার (১১ জানুয়ারি) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কালিকচ্ছ ইউনিয়নের ধরন্তী গ্রামে এক উঠান বৈঠকে তিনি এ প্রতিশ্রুতি দেন। বৈঠকের শুরুতে স্থানীয় সমর্থকেরা তাকে ফুলের মালা পরিয়ে বরণ করে নেন।
রুমিন ফারহানা বলেন, সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে ডাক্তার থাকে না, বিনামূল্যে ওষুধ মেলে না, পরীক্ষার যন্ত্রপাতি অকেজো। যদি কোনো এমপি সেখানে চিকিৎসা নিত, তাহলে এসব কেন্দ্রের মান আপনাতেই উন্নত হতো। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের এমপিরা চিকিৎসার জন্য লন্ডন, সিঙ্গাপুর বা ব্যাংককে যান।
তিনি বলেন, আমি যদি এমপি হই, আমার চিকিৎসা শুরু হবে এই এলাকার সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকেই। তখন সেই কেন্দ্রের সবকিছু ঠিক থাকবে। আর না থাকলে সংসদে আমি কী করতে পারি, তা আওয়ামী লীগের সময় আপনারা দেখেছেন।
নিজের স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এটি কোনো একক সিদ্ধান্ত নয়। গত ৯-১০ বছর ধরে যাদের সঙ্গে কাজ করেছি, সেই কর্মী-সমর্থক ও এলাকাবাসীর যৌথ সিদ্ধান্তেই তিনি নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।
রুমিন ফারহানা বলেন, ২০১৭ সাল থেকে আমি এই এলাকার মানুষের পাশে কাজ করছি। তখন বিএনপি আমাকে আমার বাবার এলাকায় কাজ করার দায়িত্ব দিয়েছিল। জোটের প্রার্থী ঘোষণার পর প্রতিটি ইউনিয়নের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মতামত নিয়েছি। তারা স্পষ্টভাবে বলেছেন—আমাকেই নির্বাচন করতে হবে।
ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ইনশাআল্লাহ আপনারা আমাকে নির্বাচিত করলে সরাইল-আশুগঞ্জকে মডেল উপজেলায় রূপান্তর করব।
নির্বাচনী পরিবেশ প্রসঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কেউ যদি আমার কর্মীদের ভয় দেখাতে চায়, তাহলে তাদের আগে আমাকে মোকাবিলা করতে হবে। শেখ হাসিনার আমলে আমার এক কর্মীকে থানায় নেওয়া হলে আমি রাত ২টা পর্যন্ত থানায় ছিলাম। এখন তো নির্দলীয় সরকার—এ সরকারের একমাত্র দায়িত্ব সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা।
আসনটির গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে দেশ-বিদেশের গণমাধ্যম ও পর্যবেক্ষকদের নজর থাকবে। এখানে সামান্য অনিয়ম হলেও তা বিশ্বজুড়ে খবর হবে। অতীতে একটি উপনির্বাচনের খেসারত দেশকে ১৭ বছর দিতে হয়েছে—এ ভুল আর কেউ করবে না বলেই আমার বিশ্বাস।
সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা আমার পাশে থাকুন। আপনাদের পক্ষে কাজ করতে আমি কখনো পিছপা হব না।
উল্লেখ্য, ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় গত ডিসেম্বরে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ-বিজয়নগরের দুই ইউনিয়ন) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। একই আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী হিসেবে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব (খেজুরগাছ প্রতীক) নির্বাচনে লড়ছেন।