বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বর্তমানে ইলেক্টিভ ভেন্টিলেশন সাপোর্টে আছেন। তার চিকিৎসায় গঠিত মাল্টি-ডিসিপ্লিনারি মেডিকেল বোর্ডের প্রধান প্রফেসর ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদার বৃহস্পতিবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “গত কয়েক দিনে নানা পরীক্ষা–নিরীক্ষায় খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যে জটিলতা দেখা দিয়েছে। শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়া, রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যাওয়া এবং কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় তাকে হাই ফ্লো নাজাল ক্যানুলা ও বিআইপিএপি মেশিনের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। তবে অবস্থা নিয়ন্ত্রণে না আসায় ফুসফুস এবং অন্যান্য অর্গানকে বিশ্রাম দিতে তাকে ইলেক্টিভ ভেন্টিলেশনে নেওয়া হয়েছে।”

৭৯ বছর বয়সী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে লিভার, কিডনি, হৃদরোগ, ডায়াবেটিসসহ একাধিক জটিল রোগে ভুগছেন। ২৩ নভেম্বর শ্বাসকষ্ট ও দুর্বলতার কারণে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর তার স্বাস্থ্য দ্রুত অবনতি ঘটে। ২৭ নভেম্বর অ্যাকিউট প্যানক্রিয়েটাইটিস ধরা পড়ে, যেটির নিবিড় চিকিৎসা এখনো চলছে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার শরীরে গুরুতর সংক্রমণ (ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাল) থাকায় উন্নত অ্যান্টিবায়োটিক ও অ্যান্টিফাঙ্গাল চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া কিডনির কার্যক্ষমতা বন্ধ হওয়ায় নিয়মিত ডায়ালাইসিস, পরিপাকতন্ত্রে রক্তক্ষরণ এবং ‘ডিআইসি’ পরিস্থিতিতে রক্ত ও রক্তের উপাদান ট্রান্সফিউশন চলছে।

সম্প্রতি ইকোকার্ডিওগ্রাফিতে অরটিক ভাল্ভে সমস্যা ধরা পড়ে এবং টিইই (ট্রান্স অয়েসোপিজাল ইকো) করার মাধ্যমে ইনফেক্টিভ এন্ডোকার্ডাইটিস নিশ্চিত হয়। এরপর দেশি ও বিদেশি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে চিকিৎসা শুরু হয়েছে।

এভারকেয়ার হাসপাতালের মেডিকেল বোর্ডে দেশের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের স্বনামধন্য হাসপাতালের চিকিৎসকরা রয়েছেন। মেডিকেল বোর্ডে নেতৃত্ব দেন ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদার, ব্যক্তিগত চিকিৎসক হিসেবে রয়েছেন প্রফেসর এফ এম সিদ্দিকী ও প্রফেসর এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

হাসপাতাল ও মেডিকেল বোর্ড গুজব ও ভুল তথ্য না ছড়ানোর অনুরোধ করেছেন এবং রোগীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রাখার সঙ্গে দেশবাসীর দোয়া কামনা করেছেন।