আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান জানিয়েছেন—দলের নেতা-কর্মীদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত প্রার্থী নয়, ধানের শীষ প্রতীকের বিজয় নিশ্চিত করা।

সোমবার (৮ ডিসেম্বর) রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান। বিজয়ের মাস উপলক্ষে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে ছাত্রদলের সারাদেশের ৭৫ ইউনিটের এক হাজারের বেশি নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

🔹 “তুমি প্রার্থীর জন্য নয়, ধানের শীষের জন্য কাজ করবে”

তারেক রহমান বলেন—
“তোমার পছন্দের প্রার্থী মনোনয়ন না-ও পেতে পারে। কিন্তু মনে রাখতে হবে—তুমি কোনো ব্যক্তির জন্য কাজ করছ না, তুমি কাজ করছ ধানের শীষের জন্য। দল ও দেশই এখানে মুখ্য।”

তিনি আরও বলেন—
“মানুষ ধানের শীষে ভোট দিলে আমরা দেশ গড়ার প্রতিটি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারব।”

🔹 পরবর্তী দুই মাসের লক্ষ্য: জনগণকে সম্পৃক্ত করা

তারেক রহমান জানান—
বিএনপির ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং তাদের সম্পৃক্ত করাই পরবর্তী দুই মাসের প্রধান কাজ।

শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, বেকারত্ব দূর, খাল খনন, ক্রীড়া উন্নয়ন, ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মার্স কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ডসহ বিভিন্ন পরিকল্পনা নেতাকর্মীরা ঘরে ঘরে পৌঁছে দেবেন বলে নির্দেশনা দেন তিনি।

🔹 “বিশেষ একজন ছাড়া সবাই খারাপ—এ ধারণার পরিবর্তন জরুরি”

দেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতার অভাব তুলে ধরে তারেক বলেন—
“গত ১৬ বছর ধরে ‘আমি ভালো, সবাই খারাপ’—এমন ধারা চলছে। ৫ জানুয়ারির পরও এর পরিবর্তন হয়নি। এ চিন্তাধারার পরিবর্তন জরুরি, না হলে গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়বে।”

🔹 “নির্বাচিত সরকারের কোনো বিকল্প নেই”

তারেক রহমান বলেন—
“গণতন্ত্র ছাড়া জবাবদিহি আসে না। একমাত্র নির্বাচিত সরকারই জনগণের কাছে জবাবদিহিতার বাধ্যবাধকতা তৈরি করে।”

তিনি ২০২৪ সালের আন্দোলনে সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণের কথা স্মরণ করে বলেন—
“৫ আগস্টের আন্দোলনের প্রকৃত মাস্টারমাইন্ড ছিলেন দেশের সাধারণ মানুষ—গৃহবধূ থেকে রিকশাচালক, ছাত্র থেকে কর্মজীবী সবাই।”

🔹 “সমস্ত তরুণ সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে”

যুবসমাজকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন—
“বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ তোমাদের ওপর নির্ভরশীল। তোমরা যদি ঐক্যবদ্ধ হও, তাহলে দেশ সামনে এগিয়ে যাবে। নইলে ভয়াবহ পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে।”

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সঞ্চালনা করেন যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল। বিএনপির অন্যান্য নেতারাও বক্তব্য রাখেন।