রাজশাহীতে জামায়াতে ইসলামীসহ সমমনা আট দলীয় জোটের বিভাগীয় সমাবেশ রবিবার (৩০ নভেম্বর) দুপুর পৌনে ২টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। শুরুর পর থেকেই পুরো মাদরাসা মাঠ পরিণত হয় জনসমুদ্রে। মাঠের চারপাশ, প্রবেশদ্বার, কর্নার এবং আশপাশের খোলা জায়গা সবখানেই মানুষের ঢল।

সমাবেশে আহত জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতি মাঠজুড়ে ভিন্ন আবহ সৃষ্টি করে। সকাল থেকেই রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে নেতাকর্মীদের মিছিল আসতে থাকে, যা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতেও ব্যাপক ভিড় তৈরি করে।

আয়োজক সূত্র জানায়, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি, এ আদেশের ওপর গণভোট আয়োজনসহ পাঁচ দফা দাবি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ, খেলাফত মজলিশ, নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি। ঢাকার পর এবার বিভাগীয় পর্যায়ে রাজশাহীতেই প্রথম বড় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হলো।

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত আছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল হক আজাদ, খেলাফত মজলিসের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল বাসিত আজাদ, জাগপার সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, বিডিপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল হক চাঁন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন আহমেদ, নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইযহার ও খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা ইউসুফ হক্কানী সহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা ।

সমাবেশে অংশ নিতে রাজশাহীর গোদাগাড়ী থেকে আসা চরমোনাইয়ের কর্মী আমিনুল ইসলাম বলেন,জুলাই সনদ শুধু একটি দাবি নয় এটা আমাদের আত্মত্যাগের প্রতীক। আজকের বিশাল জনসমাগম প্রমাণ করে, জনগণ পরিবর্তনের পক্ষে উঠে দাঁড়িয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আসা জামায়াত কর্মী মামুনুর রশীদ বলেন,মানুষ স্বেচ্ছায় এখানে এসেছেন। আমাদের দাবি গণমানুষের দাবি। সরকার যদি জনগণের কথা শুনতে ব্যর্থ হয়, এই আন্দোলন আরও বিস্তৃত হবে।

দিনব্যাপী শান্তিপূর্ণ সমাবেশে জনতার উৎসাহ, স্লোগান এবং দাবির প্রতি অটল অবস্থান রাজশাহীতে আট দলীয় জোটের শক্তি আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

ইএফ/